Bangla News Line Logo
bangla fonts
২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
মদনে নৌকাডুবিতে সাত দিনের মধ্যোই রিপোর্ট দেয়া হবে- তদন্ত কমিটি কেন্দুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিক্সা চালক নিহত কেন্দুয়ায় নানা বাড়িতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কেন্দুয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে কবিরাজের মৃত্যু যেভাবে পালাচ্ছিলেন সাহেদ;তার বিরুদ্ধে যত মামলা

২৫ মার্চ ঢাবির শিক্ষার্থী শহীদ জীবন ‍কৃষ্ণ সরকার মন্টু


সুস্থির সরকার


২৫ মার্চ  ঢাবির শিক্ষার্থী  শহীদ জীবন ‍কৃষ্ণ সরকার মন্টু

বেঁচে নেই জীবন কৃষ্ণ সরকার এঁর মা-বাবা থাকলে সন্তান হারানোর ব্যাথায় আজও কাতর হতেন। আজ সেই ভয়াবহ দিন যেদিন পাক সেনাদের সার্চ লাইট অপারেশনে নিভে গিয়েছিল নেত্রকোণার এক উজ্জল নক্ষত্র।  


২৫ মার্চ, ১৯৭১ সাল, পাকিস্থানি শাসক গোষ্টী সেদিন সার্চ লাইট অপারেশনের নামে ঠান্ডা মাথায় পৃথিবীর নৃসংসতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।হাজার হাজার মেধাবী তরুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবী সে রাতে হত্যা করেছিল। টার্গেট ছিল এই বাংলাকে মেধাশুণ্য করে দেয়া। সেদিন রাত ২টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ঘুমিয়ে ছিলেন জীবন কৃষ্ণ সরকার। পাকিস্থানী বাহিনী অন্যদের সাথে তাকেও ঘুম থেকে উঠিয়ে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সারিবদ্ধ করে গুলি করে হত্যা করে।

 

জীবন কৃষ্ণ সরকার ওরফে মন্টু নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার কুলপতাক গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা স্বর্গীয় যতীন্দ্র চন্দ্র সরকার ও মাতা প্রিয়বালা সরকার । শিশুকাল থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধার অধিকারী ।১৯৬৪ সালে মোহনগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পাশ করেন।১৯৬৬ সালে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে মেধা তালিকায় আইএ পাশ করেন। মেধাবৃত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পান। রসায়নে বিএসসি অনার্স পাশ করে এমএসসি চুড়ান্ত পরীক্ষার  ভাইভা পরীক্ষার জন্য তিনি ঢাকা যান। আর নেত্রকোণায় ফেরা হয়নি মন্টু’র। ঢাকা যাওয়ার সময় দেখা হয়েছিল আঞ্জুমান স্কুলের শিক্ষক খগেন্দ্রনাথ তালুকদার এর সাথে। তিনি তখন নিউটাউন ‘নিভৃত নিলয়’ নামে একটি বাড়িতে থাকতেন, মন্টুও নেত্রকোণা এলে সেখানেই উঠতেন। সেদিন তিনিও তাকে ঢাকা যেতে বারণ করেছিলেন কিন্তু শুনেনি, জীবন জানান, ২৬ ও ২৭ তারিখ তার ভাইভা পরীক্ষা আছে।

 

মন্টু বাড়িতে ফিরে না আসায় শোক সাগরে ভাসে তার পরিবার, শুভাকাঙ্কী ও আত্মীয় স্বজন। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংবাদ আসে জীবন কৃষ্ণকে ২৫ মার্চ রাতে গুলি করে মেরে ফেলেছে পাক সেনারা।আকাশ ভেঙ্গে পড়ে পরিবারের উপর। মা-বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন মন্টু একদিন অনক বড় হবে। তা আর হয়ে উঠেনি।শোকে কাতর হয়ে কিছুদিন পর তার মা-বাবাও পরপারে পারি দেন।  

 

১৯৮৪ সালের দিকে শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, কুলপতাক এর বাংলা শিক্ষক আব্দুল গণি একটি ব্যাকরণ বই লিখেছিলেন, সেই বইটিতে একটি কলমের আত্মকাহিনী রচনায় জীবন কৃষ্ণ সরকারকে তোলে ধরেন তিনি । ২০১৭ সালে নেত্রকোণা জেলার জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান প্রথমবারের মত বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলী ও আলোচনা সভায় জীবন কৃষ্ণ সরকার এর নাম উল্লেখ করেন।

 

নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ ‍উপজেলার কুলপতাক গ্রাম থেকে জীবন কৃষ্ণ সরকার এর বড় ভাই জোতিষ চন্দ্র সরকারে সাথে কথা বরলে তিনি জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকটি চিঠি ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মাত্যাগ স্বরূপ একটি স্বীকৃতি স্মারক পেয়েছি।

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হলেও অমিমাংসিত মুক্তিযোদ্ধা তথ্য নিয়ে দিন কাটছে।আসল মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে নকল মুক্তিযোদ্ধাদের দাপট বেশি। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিলেও শহীদ জীবন কৃষ্ণ সরকারের মত শহীদ পরিবারের খোঁজ খবর কেউ রাখে না।শহীদ পরিবার হিসাবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা কিছুই পায়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের যে সম্মান জানিয়েছেন তাতেই তারা অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। তবে শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা  শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রত্যেকের গ্রামের বাড়িতে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা ইত্যাদির ব্যপারে বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।

 (লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক)

 

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: