Bangla News Line Logo
bangla fonts
২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০, ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
মদনে নৌকাডুবিতে সাত দিনের মধ্যোই রিপোর্ট দেয়া হবে- তদন্ত কমিটি কেন্দুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিক্সা চালক নিহত কেন্দুয়ায় নানা বাড়িতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কেন্দুয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে কবিরাজের মৃত্যু যেভাবে পালাচ্ছিলেন সাহেদ;তার বিরুদ্ধে যত মামলা

দুর্যোগের তাড়া:৩০ এপ্রিলেরমধ্যে হাওরের ধান কর্তনের লক্ষ্য


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:7:42:05 PM04/21/2020


দুর্যোগের তাড়া:৩০ এপ্রিলেরমধ্যে হাওরের ধান কর্তনের লক্ষ্য

(বিশেষ প্রতিবেদন)

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী হাওরে আগাম বন্যা, প্রচুর বৃষ্টিপাতের মতো দুর্যোগকে সামেন রেখে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে হাওরের নিচু জমির ধান কেটে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রলায়। পাশাপাশি আগামী ৭ মে’র মধ্যে হাওরাঞ্চলের পুরো জমির ধান কাটা সম্পন্ন করতে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়টি।

মঙ্গলবার দুপুরে কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক নেত্রকোণায় সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে তিনি মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী হাওরে বোরো ধান কাটা পরিদর্শনে যান। এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, মানু মজুমদার, হাবিবা রহমান খানম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান, কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো.আব্দুল মুঈদ,জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রশান্ত রায়, পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়র রহমান খান, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান অন্যরা।

কৃষি মন্ত্রীর দেয়া তথ্য :
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে মন্ত্রীর দেয়া তথ্যমতে সারাদেশে এবছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন।এ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ ভাগের যোগান দেয় হাওরাঞ্চলের বোরো ধান। হাওরাঞ্চলের কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- এই সাতটি জেলার হাওরে এবছর ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২০ এপ্রিল নাগাদ হাওরের মোট আবাদের ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ জমির ৯৪ দশমিক ৭৩৭ হেক্টর ধান কাটা হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত হাওড় এলাকায় ২ লাখ ৬১ হাজার শ্র্রমিক ধান কর্তনের কাজে নিয়োজিত আছেন। ৪০০ হারভেষ্টার, প্রায় ৯০০ রিপার মেশিন দিয়ে হাওরে ধান কাটা হচ্ছে।এর মধ্যে নেত্রকোণা জেলার হাওরে ৪০ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। ধান কাটার জন্য ৬২ টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও ২৫টি রিপার ব্যবহার করা হচ্ছে। জেলাটিতে ১১ হাজার ৪৫০ জন শ্র্রমিক ধান কর্তনের কাজে আছেন। ২০ এপ্রিল নাগাদ ৩১ শতাংশ জমি ১২ হাজার ৬২০ হেক্টরের ধান কাটা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, বড় ধরণের বিপর্যয় না হলে হাওরে কৃষকেরা ধান তুলে ফেলতে পারবেন। সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে।দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারি তত্বাবধানে হাওরে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে ধান কাটতে। হাওরে বছরে শুধু একটি ফসল হয়। এই ফসল ফলাতে হাওরের কৃষকেরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এবং সার, সেচ, বালাইনাশকসহ প্রভৃতিতে তার সর্বস্ব বিনিয়োগ করে। শেষ নাগাদ তারা স্ত্রীর গহনাও বেঁচে চাষ করেন।
এ ফসল যদি নষ্ট হয়, সময়মতো ঘরে না তোলা যায় তাহলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পাশাপাশি, সারাদেশে খাদ্যের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায়, হাওরের ফসল সুষ্ঠুভাবে ঘরে তোলা জরুরি। আর এটি করতে পারলে বাংলাদেশের ধান উৎপাদনে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সাথে, নিশ্চিত করবে খাদ্য নিরাপত্তা । কৃষি মন্ত্রণালয় এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ধান কাটার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকের যাতায়াত নির্বিঘœ করা, কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং শ্রমিকদের ধান কাটায় উৎসাহ প্রদানসহ নানা উদ্যোগ রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন কৃষি বিভাগকে সম্পৃক্ত করে আমরা হাওরে আসার জন্য শ্রমিকদের সবধরণের সহায়তা দিচ্ছি। গমনেচ্ছুক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য গাড়ি এবং ধান কাটা স্থলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে।

সব কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে না সরকার :
মন্ত্রী বলেন, আমরা লিষ্ট করে দিয়েছি। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষুদ্র এবং ছোট চাষীদের লিষ্ট করে দিয়েছি। সেই লিষ্টের ওপর লটারি হবে।লটারীতে যারা জিতবে তারাই শুধু ধান দিতে পারবে।গত আমনে যারা দিয়েছে তারা তাদের নাম এবার বোরোতে আসবে না। এখন াার কেউ চিন্তা করেনা খাদ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ কের কোনমতে ধান বিক্রি করতে পারবে।একদম অনলাইনে,নোটিশবোর্ডে , পত্রিকায় নাম দেয়া হবে । আপনার এতটুকু ধান কাদ্য মন্ত্রণারয়ে বিক্রি করতে পারবেন। সেটা কিন্তু করা হবে।

সম্ভাব্য বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষকে সামনে রেখে ব্যবস্থা :
বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন ব্যহত ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার বিষয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ইতোমধ্যেই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে জানিয়ে কৃষি মন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে খাদ্য সংকটে পড়তে পারে পুরো বিশ্ব। দেখা দিতে পারে দুর্ভিক্ষও। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই করোনার মহামারির কারণে মন্দার হাত থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও মজুদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।

আউশ আবাদে ব্যাপক প্রস্তুতি:
মন্ত্রী দাবি করে বলেন, সামনের আউশ আবাদে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আউশ আবাদের এরিয়া বাড়ানো হয়েছে। প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬ হাজার টন মাঠে চলে গেছে। বীজ এবং সার দিয়েছি বিনামূল্যে। আগামী রবি ফসলের জন্যে বীজ সার এগুলোও বিনামূল্যে দিব। বাড়ির অঙ্গিণায় প্লট করে সবজি চাষ করলে সেচের জন্যে টিওবয়েল, সার , বীজ প্রযুক্তি সব আমরা দিব।একটা প্রযুক্তি আছে সারা বছর দরে বাড়ির আঙ্গিণায় সবজি করা যায়। কালিকাপুরের সেই মডেলটি দিয়ে আমরা সারাদেশে সবজি চাষের ব্যবস্থা করবো। যাতে করে মানুষের খাওয়ার কষ্টটা না হয়। আমরা স্পষ্টতই দেখতে পারছি মহামারিটা দীর্ঘস্থায়ী হবে। এবং অর্থনীতির ওপর একটা বিরাট প্রভাব পড়তে পারে। খাদ্যের দাম যাতে না বাড়ে সেজন্যে সবার সহযোগিতা চান তিনি।

কৃষিতে প্রণোদনা :
প্রণোদনা দেয়া হবে জানিয়ে কৃষি মন্ত্রী বলেন, এই প্রণোদনাটা সামনের ফসলের জন্যে। শুধু ফসলের জন্যে না। দুগ্ধ খামার, পোলট্রি খামার , মাছ চাষী এখানে খুবই ক্ষতি হয়েছে।বিশেষ করে দুগ্ধ এবং পোলট্রি ক্ষতি হয়েছে বেশি। পোলট্রিতে একদিনে বাচ্চা লক্ষ লক্ষ বাচ্চা মাটিতে পুতে দিতে হচ্ছে খামারিদের। তাদেরকে দেয়া হবে।

সবজি বাজারজাতে বিশেষ কর্মসূচি :
মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যারা ফুল চাষী তারা বাণিজ্যিকভিত্তিতে ফুল চাষ করেছেন। গাজীপুরের একজন চাষী ১০ লক্ষ টাকার ফুল বিক্রির চুক্তি করেছিলেন তিনি এক টাকার ফুলও বিক্রি করতে পারেননি। টমেটো বিক্রি করতে পারছেনা।টমেটো কিভাবে বাজারজাত করা যায় কালকে আমরা আলাপ আলোচনা করেছি পাঠাও, অনলাইনে এটাকে বিক্রি করা। কোথায় সবজি আছে সেখান থেকে ঢাকায় এনে কিভাবে বিক্রি করা যায়। এর জন্যে একটা কর্মসূচি নিয়েছি। আশা করি এটা একটা ভাল কাজ করবে।

পরিদর্শনকালে কৃষি শ্রমিকদের আশ্বাস :
হাওরে পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক শ্রমিকদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন। এসময় তাদের কি কি সমস্যা আছে তা জানতে চান। তিনি করোনা থেকে নিরাপদে থাকতে সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করতে শ্রমিকদের বলেন।। এসময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনুরোধে শ্রমিকগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটতে এসেছেন। আমরা তাদেরকে উৎসাহিত করতে এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে এসেছি। সরকার সব সময় তাদের পাশে রয়েছে। কেউ অসুস্থ বা করোনা আক্রান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে। এসময় তিনি কয়েকজন শ্রমিকের হাতে সাবান, মাস্ক তুলে দেন।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: