Bangla News Line Logo
bangla fonts
১২ মাঘ ১৪২৭, মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
গৃহহীনদের লাঞ্ছনা দিনের অবসান কেন্দুয়া-মোহনগঞ্জে নৌকার বিপুল জয়ে প্রশান্ত’র অভিনন্দন নেত্রকোণা পৌরসভা: ইভিএমের ভোটে ৬৬ প্রার্থীতা মোহনগঞ্জ পৌরসভায় আ. লীগ প্রার্থী জয়ী কেন্দুয়া পৌরসভা আবারো আ. লীগের দখলে

“ মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশ সবার”


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:4:49:20 PM12/24/2020


“ মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশ সবার”

 মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশ সবার।  সব ধর্মালম্বীদেরই এখানে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার আছে। নির্বিঘ্নে  সবাই  নিজ নিজ ধর্ম ও আচার অনুষ্ঠান পালন করবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই দেশে এটাই সবার আকাংখা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশের সব ধর্মের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জাতির পিতা চেয়েছিলেন ধর্ম নিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্যে। কিন্তু অর্ধ শতকেও এই আশার পূর্ণতা পায়নি।  প্রায়শই ধর্মের নামে হানাহানি চলেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন চলেছে। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে কাজ করছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমানের সঙ্গে খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের বড়দিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে।

স্বাধীনতাত্তোর নেত্রকোণায় এই প্রথম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিনের এই শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। এতে বিভিন্ন মিশন ও গির্জারসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় ধ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত অতিথিদের মাঝে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেয়া হয়। তা ছাড়া কেক কেটে বড়দিনের উৎসবের সূচনা করা হয়।

 এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী, বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাব্বির আহমেদ, র‌্যাব ১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার এম শোভন খান, পৌর মেয়র মো. নজরুল ইমসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সিতাংশু বিকাশ আচার্য,আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ট্রাস্ট্রি রেমন্ড আরেং, কলমাকান্দার বালুচড়া ধর্ম পল্লীর ফাদার যোশেফ চিচিম, গারো নেতা সুজয় মানখিন, চীরঞ্জীব বনোয়ারি, পাভেল কস্তা প্রমুখ।

বালুচড়া ধর্ম পল্লীর ফাদার যোশেফ চিচিম বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। এই দেশের  আলো, বাতাস, রূপ, রস গন্ধ, আমাদের আলোড়িত করে। রক্তে প্রবাহমান। এই দেশ আমাদের মা। মুক্তিযুদ্ধে আমরা সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছি জাতির পিতার ডাকে। আমরা শান্তিতে দেশে বসবাস করতে চাই।”

দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে উন্নয়নের পথে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রশংসা করে রেমন্ড আরেং যিশুর মানব কল্যাণে যে মর্মবাণী তা ধারণ ও অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার কথা বলেন । তিনি বলেন,‘সংখ্যালঘুদের  উন্নয়নে এই সরকার নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কারণেই শান্তিতে, সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নে রোল মডেল।’

বড়দিন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, ‘পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জেলার খ্রিস্টান অধ্যূষিত কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও পূর্বধলায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখবে।’ নির্বিঘ্নে, আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘এখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকারে মাধ্যমে বসবাস করছেন। শান্তি, সহবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভাতৃত্ববোধ এ সব মানবিক আচরণই ধর্মীয় মূল্যবোধ। সকল ধর্মেই মানুষের কল্যাণের কথা বলা হয়েছে। যিশুও মানব মুক্তির জয়গান গেয়েছেন।’

কলমাকান্দা,দুর্গাপুরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ১২৩টি গির্জায় বড়দিন উদযাপনে নানা আয়োজন নেয়া হয়েছে। গীর্জাগুলো আলোকসজ্জাসহ মনোরমভাবে সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উদযাপনে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২৭ লাখ ৪৩ হাজার ২৯৬ টাকা উৎসব উপলক্ষে আর্থিক বিশেষ সহায়তা দেয়া হয়েছে।এরই মাঝে এই অর্থ সহায়তার চেক গীর্জার ফাদার ও পুরোহিতদের মাঝে হস্তান্তর বরেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মানু মজুমদার।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: