Bangla News Line Logo
bangla fonts
১১ কার্তিক ১৪২৭, সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
মুক্তিযুদ্ধ,বঙ্গবন্ধু,স্বাধীনতার প্রশ্নে কোন আপস নয়-ওবায়দুল হাসান নেত্রকোণায় মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত “ কখন যে কি অইয়া যায় বলা যায় না ” কথাসাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরীর প্রয়াণ দিবসে আলোচনা সরকারি কলেজে বেসরকারি কর্মচারীদের চাকুরী রাজস্বখাতের দাবী

“ কখন যে কি অইয়া যায় বলা যায় না ”


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:2:08:28 PM10/17/2020


“ কখন যে কি অইয়া যায় বলা যায় না ”

“কখন যে কি অইয়া যায় সেটা বলা যায় না। আমরা সব সময় তটস্থ থাকি। কিছুদিন আগেও বিল্ডিংয়ের  উপরের  ছাদ ভেঙ্গে পড়ছে। দিনের বেলায় যদি এই ঘটনাটা অইত তাহলে আইনজীবী, বিজ্ঞ বিচারক,সিএসআই, পেশকারসাব, বিচার প্রত্যাশীসহ সকলেই আমরা আহত হইতাম বা নিহত হইতাম।”
নেত্রকোণার দুর্গাপুর আদালত ভবনের বেহালদশা নিয়ে এভাবেই বলছিলেন, দূর্গাপুর আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন মির্জা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা র্দীঘদিন বলছি, এর আগেও বলছি, এই র্কোটটাকে পরিত্যাক্ত হিসাবে ঘোষণা করার জন্য।  যদি পরিত্যাক্ত হিসাবে ঘোষণা কইরা নতুন একটা ভবন তৈয়ার করে অথবা এই কার্যটা যাতে কিছু দিনের জন্য হলেও অন্য যায়গায় পরিচালনা করা হয়। কারণ এখানে সাধারণ মানুষ, আইনজীবী, কোর্টের পুলিশ, বিজ্ঞ আদালতের স্টাফসহ আমরা প্রতি নিয়তই এখানে থাকি । কিন্তু কার কথা কে শোনে।
নেত্রকোণা জেলা জজ আদালত ভবনের বাইরে শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দুরে একমাত্র দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত রয়েছে গারো পাহাড় লাগোয়া  দূর্গাপুর উপজেলা সদরে। সুসং রাজাদের আমলে রাজাদের অনুরোধে বৃটিশ সরকার সীমান্ত এলাকায় জনগণের সুবিধার্থে এই দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতের ব্যবস্থা করেন। সেই থেকে চলে আসছে এই দুই আদালতের কার্যক্রম।

 দুর্গাপুর আদালত ভবনে সরেজমিনে দেখা গেছে,  গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে জ¦রাজীর্ণ হয়ে দূর্গাপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবনটি ঝুঁকিতে রয়েছে। জায়গায় জায়গায় ছাদের প্লাস্টার খসে পরে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পরে ভিজে যায় মূল্যবান নথিপত্র। এতে করে নেত্রকোণার সীমান্ত এলাকা দুর্গাপুরে আদালত ভবনের জরাজীর্ণতায় ব্যাহত হচ্ছে বিচার কার্যক্রম। ভোগান্তিতে পড়েছেন মামলার বাদি, বিবাদি, আইনজীবীসহ আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেকোন সময় দুর্ঘটনার শংকায়  রয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।

দূর্গাপুর আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানেস চন্দ্র সাহা অভিযোগ করে বলেন, ১৯৮৫ সালে এই আদালত ভবনটি নির্মাণ করা হয় কিন্তু নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ও তৈরীর ত্রুটির কারনে আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন,যারা বিচারপ্রার্থী জনগন, যারা বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী,আইনজীবী, পুলিশ ভাইয়েরা যারা আছেন সবাই আমরা রিস্কের মধ্যে আছি। কারণ কিছুদিন আগে আমাদের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেটসাব যেখানে বসেন তার সামনের যে ভীমটা ধসে বড় একটা টুকরা পড়ে। তদুপরি এই বিল্ডিংয়ের বারান্দাসহ যে রুমগুলা আছে প্রত্যেকটা রুম দিয়েই পানি পড়ে, জানালা, দরজা ভাঙ্গা। আমাদের যে নথিপত্র আছে সেই নথিপত্রগুলো পলিথিন কাগজ দিয়ে ঢাইক্যা রাখতে হয়।এই অবস্থা যদি চলতে থাকে মূল্যবান নথিপত্রদের একদিন অল্পতেই বিলিন হয়ে যাবে আর কেউ তথ্য, উপাত্ত  পাবেনা। এতে করে বিচারপ্রার্থী জনগন, আমাদের আইনজীবীরা, আমাদের কর্মচারী কর্মকর্তাসহ মাননীয় ম্যাজিষ্ট্রেটসাব সবাই একটা ঝামেলায় পড়ব। এই ব্যাপারে বিগত ম্যাজিষ্ট্রেটসাব যারা ছিলেন উনারাও বারবার উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বরাবরে তলব-তাগিদ করার পরও কোন সুরাহা হচ্ছেনা।
দূর্গাপুরের এই আদালতের স্ট্যানো কাম কম্পিউটার অপারেটর আব্দুর রায়হান বলেন, এই আদালত ভবনটি অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় এবং ঝুকিঁর্পুণ অবস্থায় আছে। সামান্য বৃষ্টি হলে আমরা দেখি যে পুরো বিল্ডিংয়ের ভিতরে পানি জমে থাকে, এইখানে আমাদের প্রতিটা কক্ষে পানি পড়ে। আমাদের ব্যবহৃত যে কম্পিউটার এবং প্রিন্টার আছে এগুলা পানি পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এখান থেকে ঠিকমত সার্ভিস পাইতেছিনা । জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। আমাদের দরজা-জানালা সবগুলাই প্রায় ভাঙ্গা। এই যে জিনিষগুলো অনবরত একটার পর একটা হচ্ছে এটা পরিত্রাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট গণর্পূত বিভাগ, ওইখানে  তিনবার চিঠি পাঠানো হয়েছে কিন্তু তারা কোন সদোত্তর  দেয়নাই বা তাদের কোন টিম এখানে আসে নাই ।তাদের কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাই নাই।
 
আদালত ভবনে মামলার কাজে এসেছেন শিবগঞ্জ গ্রামের রায়হান মিয়া। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট এইটা এরশাদ সাহেবের আমলে হইছে,কিন্তু যে কাজটা হইছে অত্যন্ত নি¤œমানের কাজ হইছে । ছাদ ভাইঙ্গা পড়তাছে। এগুলা মানুষের জন্য, বিচার বিভাগের জন্য, সকলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমি সরকারের কাছে আবেদন করি ,এটা যেন সুন্দর-সুবিধা মতে পুনরায়  আবার করা হয়। কারণ মানুষ যে আসবে, আমরা যে দাড়ায়া আছি এইডাও আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ, লইয়াররা, ম্যাজিস্ট্রেটসাবরা, পুলিশের লোকরা তারাও তো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।কখন ছাদ ধসে পড়ে যায়। এটা আমাদের আকুল আবেদন  যেন নতুন করে নির্মাণ করা হয়।

আদালতে আসা আরেক বিচারপ্রার্থী চন্ডীগড় গ্রামের আইন উদ্দিন বলেন, এই যে বিলডিংটা আমরা বিচারের জন্য আসি, যেকোন মূর্হুতে ধ্বসে পরে আমরা মরে যেতে পারি । বিচারকসহ মরে যেতে পারেন আইনজীবীরা। যেকোন সময়  র্দুঘটনা হয়ে যাওয়ার প্রবল শংকা আছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে আছি। আদালতের এ বিল্ডিংটা নতুন করে করা হউক। এখানে করা হউক অথবা স্থানান্তর করে করা হউক ,অনতিবিলম্বে করা হউক এটা আমাদের আবেদন।
 মামলার কাজে আদালতে প্রায়ই আসতে হয় বলে জানান দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম । তিনি বলেন,এই আদালতে আমরা অনেক সময় মামলা মোকাদ্দমা নিয়ে আসা যাওয়া করি। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে দেখতেছি আদালত ভবনের  ছাদের প্লাস্টার ভেঙ্গে পড়তাছে।  আমার শরীরের ওপরও পড়ছে একবার। এইডা সংস্কার করা হউক অথবা নতুন করে আরেকটা ভবন নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় সাংবাদিক নির্মলেন্দু সরকার বাবুল বলেন,  শুরুর দিকে এই আদালতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটসহ নেত্রকোণার কয়েকটি উপজেলার মানুষের বিচার কাজ চলতো এখানে। বর্তমানে শুধু দুর্গাপুরের মানুষের বিচারকাজ চলে। দুর্গাপুরে ১ লাখ ৯৮ হাজার মানুষের বসবাস। এই বাসিন্দাদের মামলা মোকদ্দমার সব কাজ এই আদালতেই সম্পন্ন হয়। এখানে  বিচারকের বসার চেয়ারের উপর একটা ভীম আছে । দেখলাম যে ভীমের থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে। পুরো আদালত ভবনটিই বেহাল হয়ে আছে। যেকোন সময় দুর্ঘটনার শংকা রয়েছে।এই ভবনটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার।

নেত্রকোণা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হাসিনুর রহমান বলেন, ১৯৮০ সালের দিকে নির্মিত উপজেলা কোর্টগুলোর জন্যে এখন কোন বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তাই এসব ভবনগুলো সংস্কার বা পুনঃসংস্কার করার মতও সুযোগ থাকেনা। তাই এই কোর্ট বিল্ডিংটির যেসব কাজ না করলেই নয় সেসব কাজ করতে অন্য ভাবে কিছু ফান্ডের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। ব্যবস্থা হলে শীঘ্রই কিছু কাজ করে দেয়া হবে।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: