Bangla News Line Logo
bangla fonts
৪ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
জানিয়ার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোণায় পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু কেন্দুয়ায় জমি চাষের সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু কেন্দুয়ায় বিলে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু নেত্রকোণায় কেরাম খেলা নিয়ে পিটুনিতে যুবক নিহত

‘সৃজনশীল পদ্ধতি কি আসলেই সৃজনশীল’


দিলীপ সেন


‘সৃজনশীল পদ্ধতি কি আসলেই সৃজনশীল’

আমি মাঝেমাঝে ভেবে অবাক হই, সৃজনশীল পদ্ধতি নামটা কী করে সৃজনশীল হল। কে সৃজনশীল? একজন আঁকিয়ে একটি ছবি আঁকলো, সে সৃজনশীল। একজন কবি একটি কবিতা লিখলো, সে সৃজনশীল। একজন ভাস্কর একটি ভাস্কর্য্য নির্মাণ করলো, সেও সৃজনশীল। একজন কৃষি বিজ্ঞানী একটি ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবন করলো, তাকেও সৃজনশীল বলা যায়। সৃজনশীলতা- একটি ধারাবাহিক কর্ম প্রক্রিয়ার ফল; চিন্তনপ্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যার জন্ম। অনেকেই বলেন, নামে কী-বা আসে যায়, গুনেই পরিচয়। একটি গোলাপকে যদি বেলী বলেও ডাকি, গোলাপেরই সৌরভ ছড়াবে। 

 

সৃজনশীলতা কী? ইংরেজিতে একটি কথা আছে- Creativity favors intelligence. সৃজনশীলতা বা সৃষ্টিশীলতা এমন একটি গুণধর্ম যা একজন আলোকিত মানুষ অন্তর্লোকের আলো বিচ্ছুরিত করে নিজস্ব ঢংয়ে কোন কিছু সৃজন করেন। আর এ সৃজনের ফল উপভোগ করে অন্যরা আলোকিত হন। 

 

আমি এও ভেবে অবাক হই যে, গত এক দশক যাবত এই সৃজনশীল পদ্ধতি নামটা চর্চা হয়ে আসছে। একটি কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন প্রণয়ণ পদ্ধতিই এতদিন যাবত সৃজনশীল নামে অভিহিত হয়ে আসছে। কোনটা সৃজনশীল? প্রশ্নপত্র প্রণয়ন নাকি উত্তরপত্র মূল্যায়ন। অনেকেই বলেন, এ পদ্ধতিতে একটি শিক্ষার্থী অনেক বেশী দক্ষ হয়ে উঠে। দক্ষতাকে কী মোটা দাগে সৃজনশীল বলা যায়? একজন রাজমিস্ত্রি সুদক্ষ হলেই কী তাকে স্থপতি বলা যাবে? এ পদ্ধতিটি নিছক দক্ষতার পরিমাপক বৈকী আর কিছু নয়। যদি এ পদ্ধতিটি সত্যিকার অর্থেই সৃজনশীল হতো- তাহলে আমাদের এ ব্যাপারে কোন কিছু বলতে হতো না। প্রকৃতঅর্থে সৃজনশীল ব্যবহারিক অনুশীলনে খরচাদিও বেশী। শিক্ষাখাতে যে ব্যয়-বরাদ্দ আছে, তার চেয়ে ঢের ব্যয়-বরাদ্দ বাড়ানো যেমন প্রয়োজন হয়ে পড়বে; তেমনি প্রশিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান আর নিষ্ঠাবান শিক্ষকেরও প্রয়োজন হবে। আমি শিক্ষকদের আবেদন করি এই যে, জীবিকা নয়, পেশা নয়, শিক্ষাকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করুন- শিক্ষাব্রতী হোন। 

 

কেউ কেউ বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন হয় ঠিকই কিন্তু এ পদ্ধতিতে পাঠদান হয় না। এটি সম্পূর্ণ অমূলক। এও বলেন, পাঠ্যপুস্তকে ‘প্রশ্নব্যাংক’ সংযোজিত হলে শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসবে। কী করে সম্ভব? আরো বেশী বেশী মুখস্থ বিদ্যায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকে পড়বে। আর মুখস্থ নামক আপদটা আরো জেঁকে বসবে। টেক্সট বইয়ের অধ্যায়গুলোর পাঠ-উপস্থাপনা দেখে মনে হয় সেই নতুন বোতলে পুরনো পানি টলমল করছে। পাঠ্য-পুস্তককে আরো আধুনিক-যুগোপযোগীভাবে ঢেলে সাজানো ছাড়া কাংখিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। পাঠ্যপুস্তককে হতে হবে আরো সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল। 

 

আমি কোন শিক্ষা মনোবিজ্ঞানী নই, শিক্ষাবিদও নই। স্রেফ কৃষির একজন ছাত্র হিসেবে উৎপাদন বুঝি, উৎপাদনই সৃজনশীলতা। কীভাবে একজন সৃজনশীল হয়ে উঠে? একজন সৃজনশীল হয়ে উঠে প্রায়োগিক নব নব কলাকৌশল অবলম্বন করে। মননের গভীরে সংহত শক্তি ছাড়া বিচিত্র কাজের ফলাফল জন্মলাভ করে না। লাউকে কি কচু(!) বলে চালিয়ে দেয়া সম্ভব? 

 

যদি একজন শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তোমাদের সৃজনশীল পদ্ধতিটি কেমন লাগছে? আমার ধারনা, সিংহভাগ উত্তর আসবে- ‘ভালই’। যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তোমাদের সৃজনশীল পদ্ধতিটি কেমন? উত্তর আসবে ‘খারাপ না’। আর যদি তাদের প্রশ্ন করা হয়, ‘তোমাদের সৃজনশীল পদ্ধতিটি পড়তে ভাল লাগে?’ উত্তর আসবে- ‘লাগে’ অথবা ‘না’ অথবা ‘নিরুত্তর’।

 

জ্ঞান-প্রযুক্তি নির্ভর দুনিয়ায় শিক্ষাকে এ সময়ে বেশী বেশী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অথচ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ছুঁই ছুঁই করলেও একটি সদ্য উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা আজও উপেক্ষিত হয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে শিক্ষাকে গ্রহণ করতে পারছে না। যেদিন শিক্ষার্থীরা পরম আনন্দের সাথে শিক্ষাকে গ্রহণ করবে, সেদিনই শিক্ষা প্রকৃত আলোর সন্ধান পাবে। আমরা পাব আলোকিত ভবিষ্যত। সেদিন ট্রেনের ঝলমলে উজ্জ্বল কামড়াগুলোই আলোকিত হবে না, চারপাশের বিস্তীর্ণ লুপ্ত অন্ধকারও আলোকিত হয়ে উঠবে। 

(লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক। একাধারে তিনি কৃষিবিদ, সাংবাদিকও।  নেত্রকোণা শহরের শিল্প সাহিত্য অঙ্গণের একজন পরিচিত মুখ  , আবার  শহর কেন্দ্রিক সাহিত্যের বৈঠকি আলোচনার মূখ্য আলোচকও তিনি  )

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: