Bangla News Line Logo
bangla fonts
২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
মদনে নৌকাডুবিতে সাত দিনের মধ্যোই রিপোর্ট দেয়া হবে- তদন্ত কমিটি কেন্দুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিক্সা চালক নিহত কেন্দুয়ায় নানা বাড়িতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কেন্দুয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে কবিরাজের মৃত্যু যেভাবে পালাচ্ছিলেন সাহেদ;তার বিরুদ্ধে যত মামলা

শান্তিনিকেতনে‘‘আ বা সা’’বাচিক গোষ্ঠির দুদিন ব্যাপি কর্মসূচী


বাবুল সাহা, কলকাতা থেকে:, বাংলানিউজলাইন ডটকম:5:56:33 PM01/08/2020


শান্তিনিকেতনে‘‘আ বা সা’’বাচিক গোষ্ঠির দুদিন ব্যাপি কর্মসূচী

পশ্চিমবঙ্গেরে বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনের গীতাঞ্জলি শান্তিদেব ঘোষ অডিটরিয়ামে, কলকাতার আ বা সা একাডেমি বাচিক গোষ্ঠি নানাকর্মসূচীর সমাপ্তি।
 বোলপুর শান্তিনিকেতনের গীতাঞ্জলি শান্তিদেব ঘোষ অডিটোরিয়ামে, কলকাতার "আ বা সা" একাডেমী বাচিক গোষ্ঠী প্রায় পঞ্চাশ জন কলাকুশলী নিয়ে এসেছিল তাদের স্বরচিত কবিতা পাঠ , কবিতা কোলাজ, আবৃত্তি,গল্পপাঠ, শ্রুতিনাটক, আলেখ্য,সঙ্গীত ও নৃত্যের ডালি সাজিয়ে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম "আ বা সা" । নামের তাৎপর্য হল ভরত মুনির নাট্যশাস্ত্র অনুযায়ী আঙ্গিক, বাচিক,সাত্ত্বিক, ও আহার্য -- এর ওপর ভিত্তি করে শব্দ সংক্ষেপে এই নামকরণ।
স্রষ্টা সোমেশ নাথ নিজেই এর পরিচালনায়। সম্পাদনায় ও সহযোগিতায় শ্রীমতী মধুছন্দা ভট্টাচার্য ।

 এরপর তানিয়া নস্করের উদ্বোধনী সঙ্গীত দিয়ে শুরু হল অনুষ্ঠান। আরো একটি সঙ্গীত পরিবেশন করেন করবী রায়। "অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে"--- সমবেত প্রার্থনার সাথে করবী চ্যাটার্জির নৃত্য যেন একটা আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছিল।হলের পরিবেশ টা ততক্ষণে আলো আঁধারির খেলায় মাতোয়ারা । ছোট থেকে বড় সকল কলাকুশলীরা যেন এক মায়াবী স্বপ্নের জগতে প্রবেশ করেছে।
প্রাক কথনে ছিলেন -সম্পাদক মধুছন্দা ভট্টাচার্য এবং কর্ণধার সোমেশ নাথ । এরপর ক্রমান্বয়ে--দ্বৈত কবিতায় - সুকুমার রায়ের "নারদ নারদ"--অংশগ্রহণে ময়ূরাক্ষী রায় ও নীলার্ণব রায়।কবিতা কোলাজ-মিলিত ভাবনায়- অসীমা সরকার, মৌসুমী চক্রবর্তী, চন্দ্রাণী ভট্টাচার্য, পদ্মিনী রায় মুখোপাধ্যায় ।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "এক গাঁয়ে"- শর্মিষ্ঠা রায়,সুমিতা দে।সমবেত পাঠ-- " একটি ঐতিহাসিক চিত্র"- সোমা সরকার,দীপঙ্কর চক্রবর্তী, রীনা নস্কর,অভিষেক মল্লিক,শুক্লা সেন,অমিতা মন্ডল,মুনমুন বসু,সিদ্ধার্থ ঘোষ,প্রতিমা সাহা দত্ত,কল্পনা ব্যানার্জি । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "কৃপণ" কবিতায় গোপা দত্ত গুপ্ত।নবনীতা সেনের "তবু ভালো থাকিস" - কন্ঠে প্রাঞ্জল রায় চৌধুরী ।"মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয় " পাঠে -- কল্পনা ব্যানার্জি ।"অতনুর দেশ" কবিতায় ছিলেন স্মৃতিকণা ভাদুড়ী ও অর্ণব মুখার্জি ।পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা "কে তোমাকে চেনে" ছিলেন শিখা দে। মিষ্টি মধুর কন্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন করবী রায়।সুচেতনা নাথ পাঠ করেছেন "চিত্ত যেথা ভয় শূন্য" র ইংরেজি ভার্সান।পরিকল্পনায় মধুছন্দা ভট্টাচার্য।
তাপস দত্ত, সোনালী ভট্টাচার্য,বিদীপ্তা গাঙ্গুলী,উমা চক্রবর্তী,দেবযানী ঘোষ,অভিষেক মল্লিক । কবিতা কোলাজ বাবুমশাই- শুক্লা সেন,অমিতা মন্ডল,সিদ্ধার্থ ঘোষ। শ্রুতিনাটক- "সখী সমাচারে" ছিলেন উমা চক্রবর্তী ও বীনা রায়।মানস কুমার মাইতি রচিত " সম্পর্ক " কবিতা পাঠে মৌসুমী সাহা ও মৌসুমী চক্রবর্তী ।সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতায় কন্ঠ দিয়েছেন-- মধুছন্দা ভট্টাচার্য, সায়ন্বিতা খাসকেল,দীপান্বিতা মজুমদার ।শ্রুতিনাটক- "ইতি মৃণালিনী" - দীপঙ্কর চক্রবর্তী,প্রতিভা সাহা দত্ত ।সুকুমার রায়ের "গোঁফ চুরি" কবিতায় মজাদার পরিবেশ তৈরী করেছেন মিনু চক্রবর্তী এবং পদ্মিনী রায় মুখোপাধ্যায় ।গল্প পাঠ-রবিঠাকুরের "নতুন পুতুল" প্রাঞ্জল রায় চৌধুরী,আরতি কর্মকার,বেলা দেবনাথ,শিখা ঘোষ,অর্পিতা ইন্দ্র।শ্রতিনাটক--" ক্ষান্ত বুড়ির রোজ নামচা"- শিখা দে সরকার,গোপা দত্ত গুপ্ত,সায়ন্বিতা খাসকেল, অপর্না ভট্টাচার্য, সুমিতা দে,বেলা দেবনাথ। আরো একটি শ্রুতিনাটক-"পোকাশে অনিচ্ছুক "- এ ছিলেন সোমা সরকার,রীনা নস্কর,মুনমুন বসু,সিদ্ধার্থ ঘোষ,প্রতিমা সাহা দত্ত।
এরই মাঝে বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনের বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা অনুষ্ঠিত হল-- কবিতা কোলাজ "স্বপ্ন, না বাস্তব!

সকলকেই একতারা ও মানপত্র দিয়ে সম্মানিত করলেন কর্ণধার সোমেশ নাথ ও সম্পাদিকা মধুছন্দা ভট্টাচার্য।
সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনায় মধুছন্দা ভট্টাচার্য ।নিয়ন্ত্রণে- সোমা সরকার,মৌসুমী সাহা।সংযোজনে--দীপান্বিতা মজুমদার, স্মৃতিকনা ভাদুড়ী,করবী চ্যাটার্জি । আবহ-- শুভ্র সেনগুপ্ত।চিত্র গ্রহন- নিবাস ধর। প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা  সোমেশ নাথ ।

দ্বিতীয় দিন  অনুষ্ঠান শুরুতেই বৈদিক মন্ত্র সহযোগে শঙ্খধ্বনিতে সমগ্র প্রেক্ষাগৃহটি যেন এক অনন্য রূপ নিয়েছিল। সাথে ছিল প্রার্থনা--" নমো নমো নমো বাংলাদেশ মম, চির মনোরম, চির মধুর"। সত্যিই বহির্জগতের সমস্ত সমস্যা ,উৎশৃঙ্খলতার বাস্তবতা থেকে সরে এক স্বপ্নপুরীতে প্রবেশ । ঘোর কাটতেই ,--একঝাঁক প্রজাপতি--ময়ূরাক্ষী রায়,নীলার্ণব রায়,সাত্যকি রায় ঘটক,সুমনা রায় ঘটক,শর্মিষ্ঠা রায়--যেন "সবুজ পাতা"র দেশে উঁড়ে বেরালো কিছুক্ষণ।
তারপরেই দেখি একটি ছোট শিশু তার মায়ের কাছে জানতে চাইছে "একুশ কি"? -- তার মা "রুদ্র গোস্বামী"র কবিতায় ফুটিয়ে তুলল "আগুন রঙা পাখি"কে, অপূর্ব পরিবেশন মা ও ছেলের। অংশগ্রহণে সাত্যকি-সুমনা রায় ঘটক।
কবিতা কোলাজ - " দাও ফিরে সে অরণ্য" এ এক বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন ঘটেছে, অংশগ্রহণে ছিলেন-- দীপান্বিতা মজুমদার, গোপা দত্ত গুপ্ত,আরতি কর্মকার,সায়ন্বিতা খাসকেল,অপর্ণা ভট্টাচার্য, অর্পিতা ইন্দ্র,সুমিতা দে,বেলা দেবনাথ,শিখা ঘোষ, শিখা দে সরকার,শর্মিষ্ঠা রায়,বিদীপ্তা গাঙ্গুলী, মধুছন্দা ভট্টাচার্য । প্রগতি সাহার কন্ঠে রবিঠাকুরের "হারিয়ে যাওয়া" কবিতা । এর পরে মন্ত্র মুগ্ধ হবার পালা। স্বরচিত কবিতা কোলাজে " রবি প্রণাম" । লেখিকা ছিলেন যথাক্রমে- মৌসুমী সাহা, মিনু চক্রবর্তী, পদ্মিনী রায় মুখোপাধ্যায়, অসীমা সরকার এবং দুর্গা সিনহা ।অংশগ্রহণে এনারা ছাড়াও ছিলেন- করবী চ্যাটার্জি, আন্দ্রেভিচ সাহা,প্রগতি সাহা,চন্দ্রাণী ভট্টাচার্য, সুমনা রায় ঘটক।
পরিকল্পনায় মৌসুমী সাহা ও আন্দ্রেভিচ সাহা।বিনম্র শ্রদ্ধায় রবিঠাকুরকে প্রণাম জানিয়ে একে একে কাব্যিক ঝর্ণাধারা বয়ে গেল যেন। এখানেই এই "আ বা সা" র বৈশিষ্ট্য । এখানে বাচিক শিল্পীর পাশাপাশি কবি ও নৃত্যশিল্পীরও সমারোহ । প্রশিক্ষক সোমেশ নাথ প্রত্যেক শিল্পীকেই সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন তাদের নিজস্ব সত্বা সহ। এরপর কবিতা কোলাজে "মানুষ বড় কাঁদছে" ফুটিয়ে তুলেছেন- স্মৃতিকণা ভাদুড়ী, অর্ণব মুখার্জি, বিনা রায়। গল্পপাঠ- "ইঁদুরের ভোজ" - মজাদার এক উপস্থাপনায় মন ভরিয়ে দিলেন মিনু চক্রবর্তী, মৌসুমী চক্রবর্তী, করবী চ্যাটার্জি ।এছাড়া একক কবিতা পরিবেশন করলেন অনেকে।প্রত্যেকেই অসাধারণ আবৃত্তি করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের " পোষ্টমাস্টার" এর অভিনয়ে মুগ্ধ করলেন স্বয়ং সোমেশ নাথ, মধুছন্দা ভট্টাচার্য এবং নিবাস ধর। অপূর্ব পরিবেশন। প্রেক্ষাগৃহটি পুরো নিস্তব্ধ হয়ে শুনছিল যেন। এবার বুঝলাম এই আ বা সা র কলাকুশলীরা এত সুন্দর পরিবেশন কিভাবে করছে।এমন গুরু ও গুরুপতœী মাথার ওপর থাকলে ভালো হওয়াই স্বাভাবিক ।এরপর একে একে শ্রুতিনাটক ,কবিতায় ভরিয়ে দিয়েছেন শিখা ঘোষ,বিদীপ্তা গাঙ্গুলী, শর্মিষ্ঠা রায়,সুমিতা দে,প্রাঞ্জল রায় চৌধুরী। অসীমা সরকার,চন্দ্রাণী ভট্টাচার্য, সোনালী ভট্টাচার্য, তাপস দত্ত,অর্পিতা ইন্দ্র।"আইন প্রমাণ পেয়েছে" - কবিতায় দুর্গা সিনহা ও প্রগতি সাহা অনবদ্য পাঠ করেছেন।
মাঝে সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সোমেশ নাথ মহাশয় আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিক অসিত রায়,অপূর্ব মন্ডল,চারুচন্দ্র রায়,দেবযানী ঘোষ,ও বর্ণালী গুপ্ত কে সম্বর্ধনা দিলেন ।গুণীজন সম্বর্ধনায় মানপত্র,ও একতারা দিয়ে বরণ করেছেন যথাক্রমে মধুছন্দা ভট্টাচার্য ,স্মৃতিকণা ভাদুড়ী, সোমা সরকার, এবং মৌসুমী সাহা।
এরপর দুটি মজাদার শ্রুতিনাটক একটা আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছিল ঐ দিন।"ভাড়াটে চাই"-- সোমা,দীপঙ্কর, রীনা,অভিষেক,মুনমুন, সিদ্ধার্থ,প্রতিমার অসাধারণ পরিবেশন নির্ভেজাল হাস্যরস সৃষ্টি করছে।ঘর ভাড়া কে কেন্দ্র করে এমন মজাদার কাণ্ডকারখানা ঘটল যা দেখে করতালিতে মুখরিত সমগ্র অডিটোরিয়াম ।আরো একটি নাটিকা- শুভাশিস ঘোষ ঠাকুর রচিত "হৃদয়হরণ বাই লেন" শুনতে শুনতে সবাই যেন পৌঁছে গেছিল সেই রাস্তায় যেখানে ঋতুপর্ণা ব্যানার্জি ও শমীক দাশগুপ্তের প্রায় ঝগড়া লেগে গেছিল।শেষে .... না থাক ওটা ওদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, আমরা শুধু মজাটা গ্রহন করলাম মন প্রাণ ভরে। পুনরায় করতালিতে মুখরিত হল সমগ্র অডিটোরিয়াম । সমাপ্তি ঘটল দুদিন ব্যাপী আ বা সা বাচিক উৎসব।




বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: