Bangla News Line Logo
bangla fonts
৩১ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
প্রশাসন সেই নারীর দায়িত্ব নেয়ার পর চিকিৎসা শুরু পূর্বধলায় আলোর ফেরিওয়ালা বিদুৎসংযোগ:১২৬ বাড়ি আলোকিত নেত্রকোণায় বাউল সাধক রশিদ উদ্দিনের স্মরণ উৎসব নেত্রকোণায় দুর্গাপুজা উদযাপনে সভা গাড়ি উল্টে এসপিসহ আহত ৩, গানম্যান নিহত

রাজনৈতিক চড়াই উৎরাইয়ে প্রশান্ত রায়


দিলীপ সেন , বিশেষ প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম, 9:02:15 PM,11/09/2018


রাজনৈতিক চড়াই উৎরাইয়ে প্রশান্ত রায়

প্রশান্ত কুমার রায় । ১৫ বছর বয়সে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ৩৭ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে এসে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনেক রাজনৈতিক চড়াই উৎরাই, জেল-জুলুম, নির্যাতন সয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে যেমন দৃঢ়চেতা তেমনি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে  সাদামাটা সরল প্রাণের মানুষ তিনি।  সংগঠকের দক্ষতায়  নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তার উন্নয়ন ভাবনার জনসম্পৃক্ততায়  মুগ্ধ গণমানুষও।   বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে  তিনি একজন রাজনৈতিক যোদ্ধা। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। যার সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনের দর্শন-জনকল্যাণ, যা একান্ত আলাপনে উঠে এসেছে।

(সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ,বাংলানিউজলাইন ডটকমের বিশেষ প্রতিবেদক কবি দিলীপ সেন।)

আপনি কত সালে কোথায় জন্মগ্রহণ করেন

১৫ই এপ্রিল ১৯৬৭ সালে বড় বাজার, নেত্রকোণায় জন্মগ্রহণ করি।

আপনার বাবা ও মায়ের নাম কি? তারা কি করতেন? আপনারা কয় ভাই বোন ও তাদের মধ্যে আপনি কততম

বাবার নাম- মনোমোহন রায়, মায়ের নাম- মুক্ত রায়। বাবা ন্যাপ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন আর মাতা গৃহিনী।
আমরা তিন ভাই দুই বোন, তাদের মধ্যে আমি চতুর্থতম।

আপনি কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপাড়া করেছেন

নেত্রকোণা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়,  পূর্বধলা ডিগ্রী কলেজ ও  নেত্রকোণা সরকারী কলেজ।

আপনি কত সালে কাকে বিয়ে করেছেন। আপনার স্ত্রী পেশাগত ভাবে কি করেন

২০০৮ সালে রমা রানী রায়কে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী পেশাগতভাবে সরকারী চাকুরীজীবী।

এ যাবত আপনি কোন কোন দেশ ভ্রমণ করেছেন

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, ইংল্যান্ড ও ভারত সফর করেছি।

আপনার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার পটভূমি কি

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আমি। আমার বাবা রাজনীতি করতে গিয়ে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে প্রায় সাড়ে তিন বছরের অধিককাল জেল খাটেন। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। আমার ভাই শহীদ জান্টু রায় ১৯৭৭ সালের ১ লা জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকায় বিডিআরের গুলিতে শহীদ হন। সেই পটভূমিতে আমি ১৯৮২ সালে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করি।

ধাপে ধাপে কোন কোন দায়িত্ব পালন করেছেন

১৯৮৫-১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, নেত্রকোণা জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। ১৯৮৯-১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, নেত্রকোণা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি।

আপনি কখন, কোথায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন
আমি ২০১১ সালে জনগণের ভোটে নেত্রকোণা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হই। ২০১৬ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচত হই আমি। বর্তমানে আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি।

আপনিতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-বারহাট্টা-২ আসনে মনোনয়ন চাচ্ছেন। মনোনয়নের ব্যাপারে দলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কতটুকু যোগাযোগ রয়েছে। আপনি কি আশা করেন, এবার মনোনয়ন পাবেন।

আমি ব্যানার ফ্যাস্টুনের রাজনীনিতে বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে। মনোনয়নের ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় সকল পর্যায়ের নেতাদের সাথে যথেষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। অবশ্যই আমি আশাবাদী, আমি মনোনয়ন পাবো।

মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার পারিবারিক ঐতিহ্য কি কোন প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন

অবশ্যই। আমার বাবা প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন সংগঠক ছিলেন। আমার ভাই জান্টু রায় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়েছেন। আমার আরেক ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুঞ্জয় রায় সেন্টু উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই দুই বার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন ডকুমেন্টারী তৈরি করেছেন; যেমন:
টিয়ার্স অব ফায়ার  শহীদ  জহির রায়হান, শহীদ আলতাফ মাহমুদ, অটিজম ইত্যাদি। এছাড়াও দেশের ওপরে আরো অসংখ্য ডকুমেন্টরী তৈরি করেছেন। এ সকল বিষয় বিবেচনায় নিলে অবশ্যই  মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার পারিবারিক ঐতিহ্য প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি এবং মনোনয়ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এটি অগ্রাধিকার পাবে।

দলের ভিতরে আরো সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। তাদের থেকে কি আপনার বেশি গুণাগুণ রয়েছে। যে কারণে আপনিই মনোনয়ন পেতে পারেন

দীর্ঘ দিন ধরে আমি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন  নেত্রকোণাবাসীর সেবা করার সৌভাগ্য হয়েছে। বিগত ২০১১ সাল থেকে নেত্রকোণা পৌরসভার মেয়র এবং বর্তমান নেত্রকোণা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়েও আমি জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবা করে আসছি। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে আমি মনে করি আমিই মনোনয়নের জন্য অধিক উপযোগী।

আপনি মনোনয়ন পেলে জনগণের জন্য নির্বাচনী অঙ্গীকার কি থাকবে

আমি মনোনয়ন পেলে জনগণের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থেকে সেবা করবো। আমি নির্বাচিত হলে নেত্রকোণাবাসী এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করবো। এটিই হবো আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার।

রাজনীতি ছাড়া এমন কি গুণ আছে আপনার যার জন্য সাধারণ মানুষ আপনাকে  স্বাতন্ত্র বা বেশি পছন্দ করে বলে আপনি মনে করেন

আমি একজন সাধারণ মানুষ। সকল মানুষের সাথে আমি আন্তরিকতার সাথে কাজ করি। সকলের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করে নেত্রকোণা জেলার উন্নয়নে অংশ গ্রহণ করি। তাই সাধারণ মানুষ আমাকে স্বাতন্ত্র বা বেশি পছন্দ করবে বলে আমি মনে করি।

যদি সকল দলের অংশ গ্রহণের নির্বাচন হয়, তাহলে ভোটের রাজনীতিতে প্রার্থী হিসেবে আপনি নিজেকে কতটা উপযুক্ত মনে করেন

ভোটের রাজনীতিতে সকল দলের অংশ গ্রহণের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আমি নিজেকে একমাত্র যোগ্য প্রার্থী হিসাবে উপযুক্ত মনে করি। কারণ, আমার নেত্রকোণার তৃণমূল নেতাকর্মী ও জনগণের সাথে গভীর সর্ম্পক রয়েছে।

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আপনার ম্যাসেজ কী

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাবো এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মকে তৈরি করবো।

আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলে কি করবেন

আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন তাকে নির্বাচিত করার জন্য তার সাথে একযোগে কাজ করে যাবো।

অবসর সময়ে কি করতে ভালবাসেন

অবসর সময়ে পরিবারের সদস্যদের সময় দেই এবং বই পড়তে ভালবাসি।

আপনার সখ কি

বন্ধুবান্ধবের সাথে আড্ডা মারা আমার সখ।

জীবনের বিশেষ মুহূর্ত; যা আপনার স্মরনীয়।

২০০৪ সালে সাবেক বিএনপি ও জামাত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের রোষানলে পরে আমাকে এক বছর ফাঁসির সেলে কাটাতে হয়।

বাংলাদেশে নিয়ে আপনার ভাবনা কি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়া, দারিদ্র দূরীকরণ, শিক্ষার হার বাড়ানো, বেকার সমস্যা কমানো, শিল্পায়ন বিদেশী বিনিযোগ আকৃষ্ট করা, সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠাসহ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সচেষ্ট থাকবো।

কী এমন স্বপ্ন আপনার ছিল যা আজও পূরণ হয়নি

মানুষের স্বপ্নের শেষ নেই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা  এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন  শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন ও নেত্রকোণাকে উন্নয়নের চরম শিখরে উন্নীত করা।



বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: