Bangla News Line Logo
bangla fonts
২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
মদনে নৌকাডুবিতে সাত দিনের মধ্যোই রিপোর্ট দেয়া হবে- তদন্ত কমিটি কেন্দুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিক্সা চালক নিহত কেন্দুয়ায় নানা বাড়িতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কেন্দুয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে কবিরাজের মৃত্যু যেভাবে পালাচ্ছিলেন সাহেদ;তার বিরুদ্ধে যত মামলা

যেভাবে পালাচ্ছিলেন সাহেদ;তার বিরুদ্ধে যত মামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:11:26:20 AM07/15/2020


যেভাবে পালাচ্ছিলেন সাহেদ;তার বিরুদ্ধে যত মামলা

সাতক্ষীরার কমলপুরের ইছামতি খালের পাশে ভারতীয় সীমানা। নদীর সীমান্ত এলাকা হওয়ায় সেখানে কাঁটাতারের বেড়াও খুব দুর্বল। গতরাতেই ঠিক ছিল বুধবার ভোরে সাহেদ সীমান্ত পার হবে। যারা সীমান্ত পারাপারের কাজ করে তারা সব প্রস্তুত রেখেছিল। বাচ্চু মাঝি বা বাচ্চু দালালের নৌকায় সাহেদকে ভারতে পার করে দেবার কথা ছিল। গতরাতেই সাহেদ বোরকা পরিহিত অবস্থায় সেখানে অবস্থান করে। ভোরে সেই নৌকা থেকেই সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার সকালে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার।

তিনি বলেন, `সাহেদ আজ দেশত্যাগ করবে তাই বোরকা পরিহিত ছিল। তার সঙ্গে স্থানীয় দালালরা ছিল। যারা সীমান্ত পারাপারা করে। এমন কিছু দালালের নামও আমরা পেয়েছি, তাদের ধরতে কাজ করছি। বাচ্চু দালাল নামে একজন দালাল মাঝি ছিল। আরও দুই-একজন তাকে নৌকায় পার হতে সাহায্য করছিল। আমরা তাদের নাম বলছি না, তারা আমাদের নেটওয়ার্কে রয়েছে। তাদেরকেও চেষ্টা করছি ধরে ফেলার।`

 

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, `সাহেদ ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় আমরা তার কাছে গিয়েও তাকে ধরতে পারছিলাম না। গতরাতে সে সাতক্ষীরা সীমান্তের দেভাটা থানার কমলপুর গ্রামের ইছামতি খালের পাশে ভারতীয় বর্ডারের সীমানায় অবস্থান করেছে। কারণ, নদীর যে সীমানা সেখানে কাটাতারের বেড়া খুবই দুর্বল হয়। এতে তার পার হয়ে যাওয়া সহজ ছিল।`

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন)বলেন, `রাতেই সেখানে সাহেদ অবস্থান করে। ভোর রাতে তার সীমান্ত ত্যাগ করার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা দল, র‌্যাব-৬ এর সহযোগিতায় আমাদের দল আগে থেকে ওৎ পেতে ছিল। বেশ কয়েকবারই যখন সে নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তন করছিল, তাই র‌্যাব বেশি সতর্ক ছিল। সাহেদ আজ দেশত্যাগ করবে তাই বোরকা পরিহিত ছিল।`

কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বলেন, সাহেদ যখন সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করে তখন, একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ডগুলি উদ্ধার করা হয়। আমরা তাকে ঢাকায় এনেছি। তার তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করব।`

তাকে কোথায় নেওয়া হবে জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, `তাকে আমরা কোথায় নিব এ ব্যাপারে পরে বলা হবে।`

সাহেদের বিরুদ্ধে যত মামলা

করোনার নমুনা পরীক্ষার মনগড়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এবার মামলা হলেও ধীরে ধীরে তার সব অপকর্ম সামনে চলে আসছে। এই মামলার আগে তার বিরুদ্ধে ৩২টি মামলা খুঁজে পেয়েছে র‌্যাব। এসব মামলায় আগে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন৷

জানা গেছে, সচতুর প্রকৃতির সাহেদ ২০১০ সালের দিকে ধানমন্ডি এলাকায় বিডিএস ক্লিক ওয়ান এবং কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি (কেকেএস) নামে দুটি এমএলএম কোম্পানি খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। সাহেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২টি মামলা খুঁজে পেয়েছেন র‌্যাব। এর বেশিরভাগই প্রতারণা মামলা। কারণ প্রতারণা করে অর্থ-সম্পদ গড়ে তোলাই ছিল তার মূলকাজ। এ জন্য করোনামহামারি চলাকালেও স্পর্শকাতর একটি বিষয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে বিবেকে বাঁধেনি তার।

গত ৬ জুলাই তার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর সাহেদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযানের পর প্রতারণার দায়ে রিজেন্ট হাসপাতাল ও প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাহেদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে করা হয়েছে নিয়মিত মামলাও।

 গ্রেপ্তার হয়েও যেভাবে ছাড়া পান সাহেদ

 ২০১০ সালের দিকে সাহেদ ধানমন্ডি এলাকায় বিডিএস কিক ওয়ান এবং কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি (কেকেএস) নামে দুটি এমএলএম কোম্পানি খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

২০১১ সালে প্রতারণা মামলায় সাহেদ একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে দ্রুতই তিনি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর প্রতারণার অর্থ দিয়ে তিনি রিজেন্ট গ্রুপ নামে ব্যবসা শুরু করেন। চালু করেন রিজেন্ট হাসপাতাল। কিন্তু ২০১৪ সালেই এই হাসপাতালের লাইসেন্সর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

কে এই সাহেদ?

মো. সাহেদের পুরো নাম মো. সাহেদ করিম। বাবার নাম সিরাজুল করিম। সম্প্রতি তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার ঠিকানা হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ, ঢাকা-১২১১। গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায়।

 

টেলিভিশন টকশোতে নিজেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে জাহির করতেন বহুমুখী প্রতারণায় অভিযুক্ত এই ব্যক্তি। তিনি আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে সব জায়গায় পরিচয় দিতেন। সেই পরিচয় দিয়ে মো. সাহেদ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতেও অংশ নিতেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসএসসি পাস করলেও তারপর আর পড়াশোনা করেননি সাহেদ। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি দুই বছর জেলে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ২০১১ সালে ধানমন্ডির ১৫ নম্বর রোডে শুরু করেন এমএলএম কোম্পানি। অভিযোগ আছে, বিডিএস ক্লিক ওয়ান নামের ওই কোম্পানির শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় ২টি মামলা, বরিশালে ১ মামলা, বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস এ চাকরির নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার কারণে উত্তরা থানায় ৮টি মামলাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে।

এছাড়াও প্রতারণার টাকায় তিনি উত্তরা পশ্চিম থানার পাশে গড়ে তুলেছেন রিজেন্ট কলেজ ও ইউনির্ভাসিটি, আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটি। এর একটিরও কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ আছে। আর অনুমোদনহীন আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটির ১২টি শাখা করে হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে সাহেদের বিরুদ্ধে। প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজের কার্যালয়ে একটি টর্চার সেল গড়ে তুলেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরায় এবং পরদিন মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যা বের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। পরে হাসপাতাল দুটো সিলগালা করে দেয় র্যা ব।

 

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: