Bangla News Line Logo
bangla fonts
১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
কলমাকান্দায় পাঁচগাও বাজারে জমিতে ভূয়া কবুলতের অভিযোগ করোনাভাইরাস : ভারতে প্রথম হানা বিএনপি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় : কাদের পুরনো প্রেমে মজেছেন জাহ্নবী সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত

মৃত্যুহীন প্রাণ ইন্দ্রমোহন সাহা



সুস্থির সরকার

endro moohon saha-netra ১৯২৬ সালে নেত্রকোণার মালনী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন ইন্দ্রমোহন সাহা। বাবা স্বর্গীয় রজনীকান্ত সাহা একজন সৎ, ধার্মিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন।

সাত বছর বয়সে পিতৃহারা হন ইন্দ্রমোহন। সেই থেকে শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম। সম্ভ্রান্ত পারিবারিক ঐতিহ্য থাকা সত্বেও নানা কারণে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়তে হয় তাকে। বোন সুমতিবালার কাছে তিনি বড় হতে থাকেন। কিছু দিনের মধ্যে মা রাজু বালাও পাড়ি দেন পরলোকে। পড়াশোনায় ইন্দ্রমোহন বরাবরই ভাল ছিলেন। এন্ট্রেন্স পরীক্ষার ফরম পুরনের টাকা নেই। দ্বারস্ত হন আইনজীবি মামার। সেখান থেকে তিনি খলি হাতে ফিরেন। আর কোন পথ খোলা ছিলনা। দেওয়া হয়নি পরীক্ষা। বিষয়টি কিশোর ইন্দ্রমোহনের মনে ব্যাপক নাড়া দেয়। এখান থেকেই শুরু জীবনের অন্য বাঁক। জীবনে প্রতিষ্ঠার ইস্পাতদৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে নেমে পড়েন ব্যবসায়। তখনকার নেত্রকোণা পূর্ব নাম কালীগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম্য হাটে কাপড় বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায়িক জীবনের কিছু দিন যেতে না যেতেই পারিবারিক সিদ্ধান্তে বাউসী গ্রামের সম্ভ্রান্ত মজুমদার পরিবারের মেয়ে লাবন্য সাহার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সহধর্মিনী সহচর্যে তার জীবন পরিক্রমা আরেক ধাপ এগিয়ে যায়। সহধর্মিনী ছিলেন ধর্মপরায়না, নিষ্ঠাবতী, অতিথি পরায়না। তাদের আলয়ে অনেক সাধু সন্যাসীদের আগমন ঘটত। পরম শ্রদ্ধা, মমতা, ভালবাসায় সিক্ত হয়ে দিন দিন পারিবারিক উন্নতি লাভ করেন। ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সস্ত্রীক প্রভু জগৎবন্ধু সুন্দরের দীক্ষা লাভ করেন। অজহর রোডে নিজ বাস ভবনে প্রভু জগৎবন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব স্মরণোৎসবকে কেন্দ্র করে শুরু করেন নিশি পালন উৎসব। পর্যায়ক্রমে অষ্ট প্রহর, ষোল প্রহর, চব্বিশ প্রহর ব্যাপি মহানাম মহাকীর্তন ছাপ্পান্ন বছর ধরে বিরামহীনভাবে পালিত হয়ে আসছে। তার সদালাপ ও মিষ্ঠ ভাষা খুব সহজেই ক্রেতাদের মন কাড়ে। প্রিয়জনরা তাকে স্থায়ী ব্যবসার জন্যে বার বার চাপ দিতে থাকে। মালনীরোডে একটি টিনের চালা ঘরে দোকান নেন। পরে তিনি আর পিছন ফিরে থাকাননি। সেখানে তিনি পাইকারী ব্যবসা শুরু করেন। তার ব্যবসায়িক সুনাম চার দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। প্রতিষ্ঠা করেন ইন্দ্রমোহন বস্ত্রালয়, লাবন্য বস্ত্রালয় ও বাসন্তী বস্ত্রালয়। তিনি ধান-চাল ও পাটের ব্যবসায় অনেক খ্যাতি অর্জন করেন। তখনকার সময় মধ্যনগর থেকে নৌকায় করে চাল নিয়ে আসতেন এবং তা স্থানীয় পাইকারী বাজারে বিক্রয় করতেন। একসময় চাল কল তৈরি করার প্রয়োজন বোধ করেন। তিনি পিতার নামে রজনী অটো রাইস মিল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা করেন লাবন্য চাল কল ও ইন্দ্রমোহন চাল কল। তার শুভানুধ্যায়ীদের সাথে প্রায় সময়ই গল্প করে বলতেন যে, টাকার জন্য তিনি পড়াশোনা করতে পারেননি। তার গ্রামের অসহায় মানুষের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবার কথা নিয়েও তিনি ভাবতেন, তাদের দু:সময়ে পাশে দাড়াতেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় এগিয়ে যেতেন সবার আগে। ৭৩ বছর বয়সে তিনি হৃদ রোগে আক্রান্ত হলে সুচিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতায় বিএমবিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টারে ভর্তি হন। চার ছেলে তিন মেয়ে রেখে ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ সালে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএমবিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টারে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

তার সুযোগ্য সন্তানরা বাবার স্বপ্নকে ধারন করে নিজ গ্রাম মালনীতে ২০০৯ সালে ইন্দ্রমোহন বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা এলাকা মালনী এখন ইন্দ্রমোহন বিদ্যাপীঠের আলোয় আলোকিত হচ্ছে।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: