Bangla News Line Logo
bangla fonts
৪ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
জানিয়ার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোণায় পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু কেন্দুয়ায় জমি চাষের সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু কেন্দুয়ায় বিলে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু নেত্রকোণায় কেরাম খেলা নিয়ে পিটুনিতে যুবক নিহত

বাক প্রতিবন্ধী এডিসন বাড়ৈ এখন কম্পিউটার প্রশিক্ষক


দিলীপ সেন, বিশেষ প্রতিবেদক,বাংলানিউজলাইন ডটকম:7:59:10 PM04/02/2019


বাক প্রতিবন্ধী এডিসন বাড়ৈ এখন কম্পিউটার প্রশিক্ষক

এক বছর আগেও  বাক প্রতিবন্ধী এডিসন বাড়ৈ কম্পিউটার চালাতে পারতো না। কম্পিউটারের জ্ঞান বলতে  কিছুই জানা ছিলনা তার। কিন্তু এখন সে  দক্ষ কম্পিউটার প্রশিক্ষক। মোক্তারপাড়া শহরের একটি কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ সেন্টারের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

এডিসনের বাবা আন্দ্রিয় বাড়ৈ বলেন, ১৪ বছরের এডিসন জন্ম থেকেই কথা স্পষ্ট করে বলতে পারেনা ।  গত বছরের  ১৪ মার্চ  এডিসনকে  এক্সেল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার শিখার জন্য ভর্তি করানো হয়।এক্সেল ’র পরিচালক সুস্থির সরকার নিজে এডিসনকে কম্পিউটার শিখানোর দায়িত্ব নেন। তিনি (পরিচালক) খুব যত্নসহকারে কম্পিউটার শিখাতে থাকেন। পরিচালক কিছুদিন পরই বুঝলেন এডিসনের টেকনিক্যাল মেধা বেশ ভাল, তাই তাকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেশি সময় রাখতে থাকেন।

এডিসনের মা পুস্প বাড়ৈ জানান, “এক্সেল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালকের নিকট আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।আমি বিশ্বাস করতে পারিনা যে, আমার ছেলে কম্পিউটারে এত ভাল করতে পারবে। আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেই ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশিক্ষণার্থী মীম জানায় যে, এডিসন সবচেয়ে আন্তরিক প্রশিক্ষক ।সকল প্রশিক্ষণার্থী তাকে খুব পছন্দ করে। আমারও তার কাছে শিখতে খুব ভাল লাগে। আমরা তাকে কোন বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে সে কখনো রেগে উঠেনা।তার কাছ থেকে আমরা শিখতে পেরে খুব ভাল লাগছে।

এক্সেল  পরিচালক সুস্থির সরকারক বলেন, কম্পিউটার শিখানোর জন্য তার মাও তার সাথে ভর্তি হয়েছিলেন যেন ছেলেকে দেখাশোনা করতে পারেন। কিছুদিন পর এডিসন নিজে নিজেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসতে থাকে এবং কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি বেশ আগ্রহ সৃষ্ঠি হয়। ছয় মাসের কোর্সে ভর্তি হয়ে ৪-৫ মাসেই সে বেসিক কম্পিউটার আয়ত্ব করে নেয়।  তাকে হার্ডয়্যার সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।, বর্তমানে সে কম্পিউটারের যেকোন সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে বা প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার নিজে নিজেই দিতে পারে।শুধু তাই নয় তার বাবার এনজিও’র অফিসিয়াল কম্পিউটার সংক্রান্ত সকল কাজ এখন এডিসন নিজেই পরিচালনা করে। এক্সেল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৭ জন প্রশিক্ষক আছে তার মধ্যে সে বর্তমানে খুব জনপ্রিয় প্রশিক্ষক।

পরিচালক সুস্থির সরকার বলেন, , এডিসনকে আমি পাইলট প্রোগ্রাম হিসাবে ধরে নিয়ে কাজ করি ইতিমধ্যে তার মত আরও তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছি।আমি বুঝতে পারলাম যে, বাক প্রতিবন্ধী কিংবা শরীর প্রতিবন্ধী যারা আছে তাদের টেকনিক্যাল শিক্ষার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না বরং তারা খুব বেশি ভাল করবে। এডিসনের সকল প্রকার কাজে আমি  সন্তুষ্ট। এডিসনকে আমি অনেক ভালবাসি।তাকে আমি আমার নিজের সন্তানের মতই দেখি।শুধু সে না আরও যারা এ ধরনের আছে তাদের প্রতি খুব বেশি যত্নশীল হওয়া দরকার সবারই। সবাই যদি এগিয়ে আসি তাহলে এ ধরনের প্রতিবন্ধী শিশু কিশোরদের আমরা সমাজের মুলস্রোতে  নিতে পারব এবং বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করতে পারব বলেন , সুস্থির সরকার।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: