Bangla News Line Logo
bangla fonts
১৭ ফাল্গুন ১৪২৭, মঙ্গলবার ০২ মার্চ ২০২১, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
মুক্তিযোদ্ধাকে কটাক্ষের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল নেত্রকোণা নেত্রকোণায় প্রতিবেশীর ঘর থেকে গৃহবধূর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার,আটক ২ বিদেশী ভাষার দাসত্ব করা চলবেনা- যতীন সরকার নেত্রকোণায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ মায়ের ভাষাই মাতৃভাষা

নেত্রকোণায় ভূমিহীনদের দেয়া ঘরে ফাটল, তদন্ত কমিটি গঠন


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:7:39:03 PM02/08/2021


নেত্রকোণায় ভূমিহীনদের দেয়া ঘরে ফাটল, তদন্ত কমিটি গঠন

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ধলা এলাকায় যার জমি নেই ,ঘর নেই  এমন ভূমিহীনদের সরকারের দেয়া বেশ কয়েকটি ঘরের মেঝে ও দেয়ালে  ফাটল দেখা দিয়েছে। নতুন নির্মাণ এসব ঘরের  কেন এই অবস্থা এর কারণ খুঁজতে জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

উদ্বোধনের ১১ দিনের মাথায় গত ২ ফেব্রুয়ারী  আটটি ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল দেখা দেয়। এ নিয়ে ঘর বরাদ্দপ্রাপ্ত লোকজন ও স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ দেখা দেয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, নেত্রকোণার দশ উপজেলায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদানের আওতায় ১হাজার ৩০টি পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর একযোগে জেলার ১০ উপজেলা পরিষদের হলরুমে পরিবারগুলোর হাতে দলিল তুলে দেয়া হয়। পরিবারের মধ্যে কৃষক, দিনমজুর,শ্রমিক, রিক্সাচালক, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক,গৃহকর্মী,মৎস্যজীবী, মুচিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।জেলার সদর উপজেলায় ৪৩ টি পরিবার, কেন্দুয়ায় ৫০, দুর্গাপুরে ৩৫,পূর্বধলায় ৫৩,কলমাকান্দায় ১০১,মোহনগঞ্জে ৩৬,আটপাড়ায় ৯৮, মদনে ১২৬,বারহাট্রায় ৪৫ ও খালিয়াজুরী উপজেলায় ৪৪৩টি পরিবারকে ্রপদানমন্ত্রীর এই উপহার দেয়া হয়।

 

 

এর মধ্যে পূর্বধলায় ৫৩টি ঘর নির্মাণে প্রতিটি ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে মোট ৯০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের গৃহ নির্মাণ বাস্তবায়নে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম এবং কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধলা এলাকায় ১২টি ঘর নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান,  উদ্বোধনের পর  আটটি ঘরের মেঝ ও দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি এলাকায় আলোচনায় উঠে আসে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও সমালোচনা শুরু হয়।

এ অবস্থায় ঘরের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের লোকজন রাজমিস্ত্রির মাধ্যমে  ফাটল স্থানে বালু ও সিমেন্টের প্রলেপ দিয়েভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালান।

জামাল মিয়া নামে একজন রাজমিস্ত্রি এখানের ঘর নির্মাণে কাজ করেছেন। এখন সেখানে তিনি ফাটলের স্থানে মেরামতের কাজ করছেন।

 তিনি জানান,  প্রায় ২০ জনের মতো শ্রমিক মিলে গত দেড় মাসে ঘরগুলো নির্মাণ করেছেন। সময় কম পাওয়ায় দ্রুততার সাথে  কাজ করতে হয়েছে। ভিটের মাটি নরম থাকায় ঘরগুলোতে ফাটল ও মেঝ দেবে গেছে। দিন দিন আরও ফাটল বাড়তে পারেও বলে তিনি শংকার কথা জানিয়েছেন।

ধলা গ্রামের রবিকুল ইসলাম ও স্ত্রী বিউটি আক্তারের নামে বরাদ্দ হওয়া ৭ নম্বর ঘরের  দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। রবিকুলের স্ত্রী বিউটি আক্তার (২৫) বলেন, ‘আমরার নামে পাওয়া এই ঘরডাত একটু ভিতরে আইয়া দেহুন, সব ফাইটা গেছে। অহনও ঘরে পারহই নাই, ভয় করতাছে যদি ভাইঙ্গা মাথার উপরে পরে। তিনডা ছুডু ছুডু আবুদুব লইয়া থাহন লাগবো।’

 ১১ নম্বর ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত দুদু মিয়া, ৯ নম্বর ঘরের মরিয়ম আক্তার, ১ নম্বর ঘরের সুমন মিয়ার বাবা আলা উদ্দন, ৮ নম্বর ঘরের সাবজান বেগম জানান, তারা এখনো ঘরে বসবাস শুরু করেননি। সব ঘরের বিভিন্নস্থানে ফেটে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর, ওয়ালী উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, গৃহ নির্মাণে নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করে ও সিমেন্ট কম দিয়ে মিস্ত্রিরা কোনোরকমে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। এ জন্যই দেয়াল, মেঝ ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষা শুরু হলে বেশির ভাগ ঘরই টিকবে না। ভেঙে পড়ে যাবে। তারা সরকারের কাছে টেকসই মজবুত ঘর নির্মাণের জন্য দাবি জানান।

 বিধবা সাবজান বেগম (৮০) বলেন, ‘এই কুলে আমার দুই ছেরার মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী, আরেকজন মাইনসের বাড়িত কাম করে। আমি ভিক্ষা মাইগ্গা চলি। প্রধানমন্ত্রী আমারে একটার ঘর উপহার দিয়েছেন। এই ঘরের ওয়ালডা ফাইট্টা গেছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তো ঠিকই দিছেন, মেস্তরিরা কাম বালা করছে না। এই ঘর যদি ভাইঙ্গা আমার শইলের উপরে পড়ে ঘরের মধ্যে যদি আমার জীবন শেষ হয়, তাইলে এই ঘরের আমার কোনো দরকার নাই।’

স্থানীয় বিশকাকুনি ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, ‘ঘরগুলো ঠিকই বানানি হইছিল। কিন্তু সময় কম থাহনে একটু ফাইট্টা গেছে। আর আশে পাশে ইরি খেতে পানি দেওনে ঘরে ফাটল ও ডাইব্বা গেছে। কিছু দিন পরে ঠিক হইয়া যাইবো।’

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম মুঠোফোনে বলেন, ১২টি ঘরের মধ্যে বেশির ভাগ ঘরের দেয়াল ফেটে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পিআইওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজমিস্ত্রি দিয়ে টেকসইভাবে রিপিয়ারিং করে দেওয়ার জন্য।

আমাদের তদারকি বা আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না। প্রতিটি ঘরই ভালো ইট, সিমেন্ট, বালু, কাঠ, টিন দিয়ে যত্নসহকারে নির্মাণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। কিন্তু ভিটের মাটি এটেল হওয়ায় চারপাশের বোরো জমিতে পানি দেওয়ার ফলে ঘরগুলোর এই দশা হয়েছে। এগুলো আমাদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কাজি মো: আব্দুর রহমান বলেন, গতকাল ধলা গ্রামের ঘরগুলো  পরিদর্শন করেছি। ঘরগুলো প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। সঠিকভাবে সব কাজ শেষ হওয়ার পর সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে। আমি সর্বোচ্চভাবে নজরে রাখছি। আশা করি কোন অসুবিধা হবেনা।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে মাটির সমস্যা নজরে পড়েছে। সেখানে কোন অনিয়ম হয়েছে কি না । সঠিক কি কারণে এমন হয়েছে এর কারণ বের করতে অতিরিক্ত জেলা হাকিমকে  (এডিএম) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়া হবে বলেন তিনি।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: