Bangla News Line Logo
bangla fonts
৪ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
জানিয়ার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোণায় পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু কেন্দুয়ায় জমি চাষের সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু কেন্দুয়ায় বিলে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু নেত্রকোণায় কেরাম খেলা নিয়ে পিটুনিতে যুবক নিহত

নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিপর্তিত,২২৯ স্কুল বন্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:4:18:06 PM07/14/2019


নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিপর্তিত,২২৯ স্কুল বন্ধ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ের ঢল ও ছয়দিনের টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। জেলার উব্ধাখালি, সোমেশ্বরী ও কংশ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দূর্গাপুর, কলমাকান্দা  ও বারহাট্রা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। দুই শতাধিক স্কুলে পানি উঠায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার  বন্যার্তদের সব ধরনের সেবা দিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারি ও উপজেলার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সহকারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

রোববার  দুপুরে বন্যা কবলিত জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলার ২২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা।

জেলার কলমাকান্দা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, উপজেলার মোট ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে বন্যায় প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় ১৪৭টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকবে। এছাড়া ৯টি বিদ্যালয় বন্যা কবলিত মানুষের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে খোলা রয়েছে এবং অন্য ২৫টি বিদ্যালয় স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দুর্গাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের ভূইয়া জানান, উপজেলার মোট ১২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৭টি বিদ্যালয় বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য বিদ্যালয়গুলো স্বাভাবিক থাকলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকার কারণে আরও বিদ্যালয় প্লাবিত হতে পারে বলেও তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।

এদিকে উপজেলার ১০৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বন্যার কারণে ৭৫টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে জেলার বারহাট্টা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহী দিলশাদ এলীন বলেন, বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্য বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পানি নেমে গেলে বন্ধ বিদ্যালয়গুলোতে আবারো পাঠদান শুরু হবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, বিদ্যালয়ে ও বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বন্যা পানি প্রবেশ করার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আক্তারুজ্জামান জানান, রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ উব্ধাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।এছাড়াও অন্য নদীগুলোরও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: আরিফুল ইসলাম জানান, বন্যায় দুই হাজার ১৯টি পুকুরের ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সাড়ে ১১ মেট্রিকটন মাছ ভেসে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ২০০ হেক্টর জমির আউশ ফসল, সবজি ও আমন বীজতলা।এর মধ্যে ২০ হেক্টর আউশ ধান, ৬০ হেক্টর আমন বীজতলা ও ১২০ হেক্টর সবজি রয়েছে।
তিনি জানান, প্রশাসন সাতটি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। বন্যার্তদের জন্যে ৫০ মেট্রিক টন বরাদ্দের চাল ও দেড় হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করছে প্রশাসন। পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: