Bangla News Line Logo
bangla fonts
১৭ চৈত্র ১৪২৬, বুধবার ০১ এপ্রিল ২০২০, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
চীনে আবার বিদেশী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেশে নতুন আক্রান্ত নেই, ৪ জন সুস্থ মিরপুরে বাসায় আগুন, নিহত ৩ মানুষ এ যুদ্ধেও বিজয়ী হবে -প্রশান্ত কুমার রায় করোনা:নেত্রকোণায় সেনাসদস্য, রেডক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচারণা

নেত্রকোণায় নানা আয়োজনে সাত মার্চ পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:11:48:12 AM03/07/2020


নেত্রকোণায় নানা আয়োজনে সাত মার্চ পালিত

নেত্রকোণায় নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক  সাত মার্চ পালিত হয়েছে।

শনিবার জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম শহরের তেরীবাজার এলাকার কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা করে।

সকালে পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মো: শামছুজ্জোহার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক হায়দার জাহান চৌধুরী, জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের  সাধারণ সম্পাদক সিতাংশু বিকাশ আচার্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অধ্যাপক মানিক রায়সহ অন্যরা।

বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ তুলে ধরে বলেন, দেশের উন্নয়নে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আলোকে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

 আওয়ামী লীগ :

সকালে জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিয়র রহমান খান।

 

পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মজিবর রহমানের কোন কর্মের অপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাতই মার্চ :

একাত্তরের সাতই মার্চ এসেছিলো ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের পটভূমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী ভাষণে। তিনি একদিকে যেমন স্বাধীনতার ডাক দেন আবার অন্যদিক খোলাও রেখেছিলেন শাসকগোষ্ঠীর সাথে আলোচনার পথ। তার এই ভাষণের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশনা পায় মুক্তিকামী বাঙালী। আর পরবর্তীতে এ পথ ধরেই আসে স্বাধীনতা।

একাত্তরের সাতই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেবেন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আগে থেকেই তার ওপর চাপ ছিলো স্বাধীনতা ঘোষণার। ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষাও।

যদিও বেশ কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি নেন বঙ্গবন্ধু। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলাপ ও আলোচনা করেন তিনি। ঠিক আগের রাতেও বৈঠক করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দিন আহমেদসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সাথে।

৭ই মার্চ সকালেই বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসার সামনে ভিড় জমায় দলের নেতা-কর্মীরা। রেসকোর্সে রওনা হওয়ার আগেও বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা দেন তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব।

আর ঠিক ততক্ষণেই ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। রেসকোর্স ময়দানে জমায়েত হয়েছে লাখো জনতা। সাদা পায়জামা পাঞ্জাবী এবং হাতাকাটা কালো কোট পড়ে হাজির হন জনতার সামনে। চারদিকে তখন পিনপতন নিরবতা। অলিখিত ভাষণে মুক্তিকামী বাঙালীকে দেন নির্দেশনা ও স্বাধীনতার ডাক।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, প্রায় ১৮ মিনিটের ভাষণে তৎকালীন রাজনীতির সবদিকই উঠে এসেছিল। যাতে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা না হয় সেজন্যও চারটি শর্ত দিয়ে পাকিস্তান ভাঙ্গার দায় নেননি তিনি। অন্যদিকে এই একটি ভাষণের মাধ্যমে তিনি একটি জাতিকে সশস্ত্র বাঙ্গালী জাতিতে রূপান্তর করেছিলেন।

এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ও এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকো। এই বক্তব্যে মুলত গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শেষে আবারো স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। আর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতা যুদ্ধের।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: