Bangla News Line Logo
bangla fonts
৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
মোহনগঞ্জে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান নেত্রকোণায় হুমায়ূন আহমেদ’র জন্মদিনে নানা আয়োজন নেত্রকোণায় শুরু রাস উৎসব দুর্গাপুরে মুক্তি চেতনায় ৭১’র প্রথম বর্ষপূর্তিতে গুনীজন সংবর্ধনা কলমাকান্দায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

নেত্রকোণায় জেল হত্যা দিবসে নানা কর্মসূচি


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:1:57:48 PM11/03/2019


নেত্রকোণায় জেল হত্যা দিবসে নানা কর্মসূচি

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেত্রকোণায় পালিত হচ্ছে জেল হত্যা দিবস।

রবিবার জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন , শোক র‌্যালী ও আলোচনাসভা করেছে।

পঁচাত্তরের তেসরা নভেম্বর কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে।পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার। মধ্যরাতে এখানে এসে থামে সামরিক বাহিনীর একটি গাড়ি। সশস্ত্র কয়েকজন ঢুকে যায় কারাগারে। রাত তিনটার দিকে গুলির শব্দে কেঁপে উঠে ঢাকা।

হত্যা করা হয় জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে।

সকালে শহরের তেরী বাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে  জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর শোক র‌্যালী বের করে। র‌্যালীটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংগঠনের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে সংগঠনের জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো: শামছুজ্জোহার সভাপতিত্বে আলোচনাসভা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সিতাংশু বিকাশ আচার্য্য, অধ্যাপক মানিক রায়, মুক্তিযোদ্ধা আইয়োব আলীসহ অন্যরা।

মো: শামছুজ্জোহা  বলেন, জাতীয় চার নেতা হত্যার নেপথ্যে থাকা কুশিলবদের খুজে বের করতে হবে। এবং তখনকার সময়ে দায়িত্বশীলদের কার কি ভুমিকা ছিল তাও কমিশন করে প্রকাশ্যে আনতে হবে।

তেসরা নভেম্বর কারাগারে গণহত্যা হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে এ ঘটনার তদন্ত হলে ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্খীদের কঠোর বার্তা দেয়া যেত বলেও মত তাদের।

 ঢাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৫ আগস্টের মধ্যে একটা জেনোসাইডের এলিমেন্ট আছে। আর ৩ নভেম্বর পুরোপুরি গণহত্যা। সুষ্ঠু তদন্ত কখনোই হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় তদন্ত প্রভাবিত হয়েছে। পূর্বাপর সব বিশ্লেষণ করে উপসংহার টানা যেত। মনে হয় না, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ আছে।

শহীদ মনসুর আলীর সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম গণমাধ্যমকে বলছেন, এ হত্যায় জড়িত থাকায় বিএনপির শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ওবায়দুর রহমান, তাহের উদ্দিন ঠাকুরের বিচার হওয়া উচিত। পাশাপাশি তৎকালীন সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ, বিমানবাহিনী প্রধান একে খন্দকারসহ সেনা কর্মকর্তাদের কার কি ভূমিকা ছিল তা বের করতে স্বাধীন কমিশন গঠনের আহ্বানও তার।

শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিম জানান, মোশতাকের অভিলাস ছিল হয়তো চারনেতা তার কাছে সারেন্ডার করবে। কিন্ত তারা তা করেননি। তাই আওয়ামী লীগ ও জাতিকে নেতৃত্বশুণ্য করতে চারনেতাকে হত্যা করা হয়। কিলার মোশতাকের সাথে ছিল জিয়াউর রহমান।

দীর্ঘ সময় পর ২০০৪ সালে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রায় হলেও সুবিচার হয়নি বলেও মত তার। বলছেন, এর নেপথ্যে থাকা কুশিলবেরা এখনও আছে নাগালের বাইরে।

শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, তাহের উদ্দিন ঠাকুর আরো কিছু ব্যক্তি ছিল যারা চক্রান্তের সাথে জড়িত ছিল। কিন্ত তাদের চরম শাস্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি সরকার। ১৫ আগস্টের পর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কমান্ড, সিভিল প্রশাসনে কারা ছিল, কি ভূমিকা ছিল তদন্ত কমিশন করে এসব বের করা উচিত।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: