Bangla News Line Logo
bangla fonts
৩১ ভাদ্র ১৪২৬, রবিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
প্রশাসন সেই নারীর দায়িত্ব নেয়ার পর চিকিৎসা শুরু পূর্বধলায় আলোর ফেরিওয়ালা বিদুৎসংযোগ:১২৬ বাড়ি আলোকিত নেত্রকোণায় বাউল সাধক রশিদ উদ্দিনের স্মরণ উৎসব নেত্রকোণায় দুর্গাপুজা উদযাপনে সভা গাড়ি উল্টে এসপিসহ আহত ৩, গানম্যান নিহত

নেত্রকোণার ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সম্ভাবনা


এ কে এম আব্দুল্লাহ


নেত্রকোণার ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সম্ভাবনা

উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত সূফী সাধক ও ইসলাম ধর্ম প্রচারক হয়রত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রঃ) পূণ্যভূমি, মেঘালয়ের পাদদেশে ছোট বড় অসংখ্য পাহাড়, পাহাড়ের কুল ঘেষে কলকল ধ্বনিতে বয়ে আসা স্বচ্ছ নীলাভ জলরাশি, হাওর বাওর নদী নালা খাল বিল পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি নেত্রকোণা।

নেত্রকোণা জেলা মূলত ধান উদ্বৃত্ত জেলা হলেও এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র চীনা মাটির খনি ও হাওরাঞ্চলের অফূরন্ত মৎস্য ভান্ডার। মহুয়া মলুয়া স্মৃতি বিজরিত ময়মনসিংহ গীতিকা ও লোক সংস্কৃতির চারণ ভূমি এই নেত্রকোনা। ইতিহাস ঐহিত্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ জেলা নেত্রকোণা। সুদুর প্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ, জাতীয় পর্যায়ের দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বে অভাব, মন্ত্রীত্ব না থাকা আর নানাবিদ সমস্যার কারণে এ জেলা দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তারপরও এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে উন্নয়নের নব-দিগন্ত উন্মোচনের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। ১৯৪৫ সালের ৮ এপ্রিল নেত্রকোনার নাগড়া মাঠে নিখিল ভারত কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ জেলার মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় হলেও রাজনৈতিক সচেতনতার কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, টংক আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, ফকির বিদ্রোহ আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে নেত্রকোণাবাসীর ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল।

    ধর্ম প্রচার :তৎকালীন রোম সাম্রাজ্যের যুবরাজ শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী রাজা ও রাজত্বের মোহ ত্যাগ করে হিজরী ৪৪৫ সনে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশে ৪১ জন সাহাবী নিয়ে ভারতীয় উপ-মহাদেশে আগমন করেন। পরে তিনি মদনপুরে স্থায়ী আস্তানা গাড়েন। তার মাধ্যমেই এই উপ-মহাদেশে প্রথম ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটে।

 নামকরণ : সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬৫০ সালের দিকে নৌপথে যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করে খরস্রোতা মগড়া ও ধলাই নদীর মধ্যবর্তীস্থলে কালীগঞ্জ নামকস্থানে হাট বসে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটায় আস্তে আস্তে সেই হাট স্থায়ী বাজারের রূপ নেয়। ব্রিটিশ শাসনামলে শাসন কার্য পরিচালনার জন্য ব্রিটিশরা নাটোরকোণায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করেন। এ সময় লেডিকান্দার টিপু শাহ্ পাগলের নেতৃত্বে পাগলপন্থী বিদ্রোহীরা প্রায় সময়েই ফাঁড়ি আক্রমন করায় ব্রিটিশরা নাটোরকোণঅ থেকে পুলিশ ফাঁড়ি সরিয়ে নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ গত তিন দিক নদী বেষ্টিত কালীগঞ্জ বাজার নিরাপদ এলাকা হিসেবে মনে করায় সেখানে ফাড়ির পরিবর্তে থানা স্থাপন করা হয়। নাটোরকোণা থেকে নেত্রকোণায় রূপান্তরের কাহিনীটা হচ্ছে, তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার পাগলপন্থীদের বিদ্রোহ দমন এবং তাদেরকে পরাস্ত করার জন্য এই এলাকার এক ইংরেজ সাহেবকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এই সাহেব নাটোরকোণা বলতে পারতেন না। তিনি বলতেন ‘নেটেরকোণা’। ব্রিটিশদের উচ্ছারণের কারণে নাটোরকোণা এক পর্যায়ে নেটেরকোনায় রূপান্তর হয়। পরে কালের বিবর্তনে লোক মুখে নেটেরকোণাকে নেত্রকোনা বলতে শুরু করায় এক সময় নেটেরকোনা নেত্রকোণা হয়ে যায়।  

   ১৮৮০ সালে ব্রিটিশরা নেত্রকোণা থানাকে মহকুমায় উন্নীত করেন। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৮৮৭ সালে নেত্রকোনা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান আমলে নেত্রকোনা মহকুমা ও কিশোরগঞ্জ মহকুমাকে নিয়ে কায়দাবাদ জেলা গঠনের জোর দাবী উঠে। ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার কায়দাবাদ জেলা সদর স্থাপনের জন্য কেন্দুয়ায় ভূমি অধিগ্রহনও করেছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেনি। ১৯৮৪ সালের ১৭ জানুয়ারী  তৎকালীন সরকার প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে  নেত্রকোনা মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করার ঘোষনা দেন। ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নেত্রকোনা জেলার কার্যক্রম শুরু হয়।

 এক নজরে নেত্রকোণা : নেত্রকোণা জেলার আয়তন ২৮১০ বর্গ কিলোমিটার। এর জনসংখ্যা ২২ লাখ ২৯ হাজার ৪ শত ৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ১১ হাজার ৩ শত ৬ জন, মহিলা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৩ শত ৩৬ জন। নেত্রকোনা জেলায় রয়েছে ১০টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৮৬টি ইউনিয়ন, ২ হাজার ২শত ৯৯টি গ্রাম ও ৮টি সীমান্ত ফাঁড়ি। নেত্রকোনা জেলায় ৬৫ কিলোমিটার রেলপথ, ৫ শত ৬৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ১ হাজার ৬ শত ৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, ২ মত নটিক্যাল মাইল নদী পথ। ১০ উপজেলার ৯টির সাথে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু হাওরাঞ্চর হিসেবে খ্যাত খালিয়াজুরীর সাথে এখনও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি। নেত্রকোনা জেলায় ২৭টি কলেজ, এর মধ্যে ১১টি সরকারী, ১ শত ৮৭টি উচ্চ বিদ্যালয়, এর মধ্যে ১১টি সরকারী, ৫৯টি জুনিয়র স্কুল, ১ হাজার ৯৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৪৪টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি ইংরেজী মাধ্যম প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান, ১টি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৩ শত ১০টি মাদ্রাসা, ১টি সরকারী শিশু সদন, ৫টি এতিমখানা, ১টি উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী, হাসপাতাল ১০টি, ৬২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ১টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃসদন), ২শত ৪৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১টি স্টেডিয়াম রয়েছে। নেত্রকোনা জেলায় মোট কৃষি জমির পরিমান ৪ লক্ষ ৭৩ হাজার একর।

  দর্শনীয় স্থান : নেত্রকোণা সদরের মদনপুরে উপ-মহাদেশের প্রথম ধর্ম প্রচারক, সূফী সাধক হয়রত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রঃ) কেন্দুয়া উপজেলার মোগল আমলের রোয়াইল বাড়ী দূর্গ, দূর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর চিনামাটির খনি, বিরিশিরি কালচারাল একাডেমী, টংক আন্দোলনের স্মৃতি সৌধ, রামমনি স্মৃতি সৌধ, রানীখং মিশন, কমলা রানীর দীঘি, কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা সাত শহীদের মাজার, বিজয়পুর, লেঙ্গুরা, চেংটি, বরুয়াকোনা, গোবিন্দপুর পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য যে কোন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষকে আকৃষ্ট করে।

 স্থাপত্য ও প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শণ : নেত্রকোণা জেলায় অনেক প্রাচীন স্থাপত্য রয়েছে। সে সকল স্থাপত্য গুলো অধিকাংশই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। কিছু স্থাপত্য এখনো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। নেত্রকোনার ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মদনপুরের হয়রত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমীর (রঃ) মাজার, কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইল বাড়ীতে রয়েছে মোগল যুগের সুলতানী আমলের প্রাচীন দুর্গ। নেত্রকোনা জেলা প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে ১৯৯২ সালে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর রোয়াইল বাড়ী দূর্গ খনন কাজ শুরু করেন। প্রতœতত্ত্ব বিভাগ কনন কাজ পরিচালনা কালে বেরিয়ে আসে সুরম্য বারদোয়ারী মসজিদ, দুর্গ, রাস্তা, পরিখা, সুরং পথ, কবরস্থান, অনেক অট্টালিকা। জাফরপুর গ্রামে একটি মসজিদের ইট ও কারুকার্য রোয়াইল বাড়ী মসজিদের ইট ও কারুকার্যের সাথে মিল রয়েছে। নোয়াপাড়া গ্রামের জমিদার ও আশুজিয়া গ্রামের অনেক প্রাচীন স্থাপত্য আজ বিলুপ্ত প্রায়। শাহ্ সুখুল আম্বিয়ার মাজারের পাশে মোগল যুগের এক গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদ, পুকুরিয়ার ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গ, নাটোরকোনার ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারতের স্মৃতি চিহ্ন, দুর্গাপুরের মাসকান্দা গ্রামে সুলতানী আমলের এক গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদ, সু-সং রাজ রঘুনাথ সিংহ দুর্গাপুরের মাধবপুর ছোট পাহাড়ের উপর একটি শিব মন্দির স্থাপন করেছিলেন। কালের আবর্তে সেই মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। তবে মাধবপুরের সেই পাহাড়ে এখনও পর্যন্ত অসংখ্য ভগ্ন ইট পাওয়া যায়। সু-সং জমিদার বাড়ীর শেষ অস্তিত্ব এখন বিলীন। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে সু-সং রাজ জানকিনাথ মল্লিক স্থানীয় জনগনের পানীয় জলের সু ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে বিশাল পুকুর খনন করেছিলেন। সেটি কমলা রাণীর দীঘি নামে খ্যাত। একটি মাত্র পাড় ছাড়া কমলা রাণীর দীঘির আর কোন চিহ্ন নেই। পূর্বধলা উপজেলার গাগড়া জমিদার বাড়ী, বাঘবেড় ও নারায়ন ডহর জমিদার বাড়ীর ইমারতগুলো প্রায় বিলুপ্ত। পাঠান আমলের আটপাড়ার সালকি মাটিকাটায় ঐতিহাসিক জোড়া পুকুরের অস্থিত বিলীন হওয়ার পথে।      

সমস্যা : স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নেত্রকোনা জেলার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেষা সীমান্তবর্তী দূর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এ এলাকাকে একটি পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার জোর দাবী জানিয়ে আসছে এলাকার জনগন। নেত্রকোণা জেলার শ্যমগঞ্জ-বিরিশিরি দূর্গাপুর সড়কের বেহাল দশার কারণে পর্যটকরা এ এলাকার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছে না। নেত্রকোনা জেলা শহরের যানজট নিরসন কল্পে নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন যাবৎ একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ, নেত্রকোনা পৌরসভাস্থ মগড়া নদীর উপর ১৯৬৫ সালে নির্মিত মোক্তারপাড়া ব্রীজটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি ভেঙ্গে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রশস্ত দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ নির্মাণের জোর দাবী জানিয়ে আসছে। বর্তমান সরকার এসব দাবী বাস্তবায়নে এখন কোন জোরালো পদক্ষেপ নেয়নি। অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত কড়ে গড়ে তোলার জন্য নেই কোন বিশ্ববিদ্যালয়। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য নেই ইংরেজী মাধ্যম স্কুল কলেজ ও ভাল মানের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নেত্রকোনা প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা বিরাজ করছে। ৫০ শয্যার নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল ১শত শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত না হওয়ায় এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ না দেয়ায় জনগন এর কোন সুফল পাচ্ছে না। কোমলমতি শিশু কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং নির্মল চিত্ত বিনোদনের নেই কোন শিশু পার্ক। কর্মব্যস্ত মানুষ সপ্তাহে একদিন স্ত্রী সন্তান ও পরিবার পরিজন নিয়ে কোথাও বেড়ানো জন্য নেই কোন পার্ক। বর্যাকালে হাওরাঞ্চলের জনগনের হাতে কোন কাজ না থাকায় তারা ৮ মাস বসে অলস সময় কাটান। হাওরাঞ্চলে কোন হিমাগার না থাকায় হাওর থেকে আহরিত মৎস্য সম্পদ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেরণের সময় লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ পচে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও জেলা সদরের সাথে প্রতিটি উপজেলা সদরের রাস্তা অত্যন্ত সরু ও দীর্ঘদিন যাবৎ ভগ্নদশা বিরাজ করায় যাত্রী সাধারণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 সম্ভাবনা : দূর্গাপুরের বিজয়পুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র চিনা মাটির খনিকে (হোয়াইট ক্লে) কাজে লাগিয়ে এখানে সিরামিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। এখানে রয়েছে অফুরন্ত সিলিকন বালি। যা দিয়ে কাঁচ শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। বিজয়পুর স্থলবন্দর চালুর মাধ্যমে প্রতিবেশী ভারতের সাথে আমদানী রপ্তানী কার্যক্রম বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে একদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্ম সংস্থান হবে। অপরদিকে ব্যবসা বানিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন বাড়বে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিসহ বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দূর্গাপুর ও কলমাকান্দার নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী পর্যায়েও উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বর্ষাকালে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে। এছাড়াও মিঠা পানির মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত হাওরাঞ্চলে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা যেতে পারে।  

 

 

 

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: