Bangla News Line Logo
bangla fonts
১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
কলমাকান্দায় পাঁচগাও বাজারে জমিতে ভূয়া কবুলতের অভিযোগ করোনাভাইরাস : ভারতে প্রথম হানা বিএনপি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় : কাদের পুরনো প্রেমে মজেছেন জাহ্নবী সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত

চা বিক্রেতা এক মায়ের স্বপ্নের কথা



চা বিক্রেতা এক মায়ের স্বপ্নের কথা

আলপনা বেগম

ছেলে হবে ডাক্তার। এমন টাই স্বপ্ন মায়ের। কিন্তু কেমন করে হবে, সেই ভাবনাও মায়েরই। কারণ প্রতিদিন চুলোয় আগুন না জ্বালালে পেটের খাবারই জোটবে না।  সেই চূলোতেই আগুন দেয়া যার রোটিন মাফিক কাজ। নারীর নাম দোলা। ছোট্ট একটা স্টল। প্রতিদিন কাজ হচ্ছে চা বানানো। মাঝে মাঝে শরীরটা কাজের সায় না দিলেও চা বানাতে যেতেই হয়। কারন এই চায়ের সাথেই যে ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। নিজের নেই দোকান। নেই জায়গা। আজ এখানে তো কাল সেখানে। এভাবেই দোকান চলে দোলার।

নেত্রকোণা শহরের জয়নগর আধুনিক সদর হাসপাতালের ২ নম্বর গেটের পাশে কোন রকমে ছাউনি দিয়ে চলে তার দোকান। আর এই দোকান চালিয়ে তারা তিনজনের জীবন চলে। একটি সংসারের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সে স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে গেল। তাই মা হওয়ার আশায় দত্তক নিল এক ছেলে সন্তানের। তাই এখন আর তার নেই কোন বাড়তি স্বাদ আহ্লাদ। একমাত্র ছেলেকে ডাক্তার বানানোই যেন জীবনের মূল লক্ষ্য। আর তাই তার জীবনের এমন নিষ্টুরতার গল্প শুনে সত্যিই কেঁদেছিলাম নীরবে। হাসপাতাল এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চা খাওয়া। আর সেখান থেকেই পরিচয় মা নামক দোলার সাথে। শুনলাম তার সংগ্রামী জীবন কথা। দীর্ঘক্ষণ বসে তার সংগ্রামী জীবন উপলব্ধি করি। সে অল্প স্বল্প জানায় তার নিজের কথা।

জানা হলো যে নারীর প্রতিটি দিন শুরু হয় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। জীবনের সাথেই যুদ্ধ যার নিয়তি। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় চায়ের কেটলীতে পানি ঢালা। নাম তার দোলা খাতুন। বয়স হবে ৩৫। স্বপ্ন একটাই একমাত্র ছেলেকে ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার বানানো। মা বাবা ভাই বোন কেউ পাশে নেই। তবে রয়েছে মনোবল। আজ এখানে তো কাল সেখানে। চায়ের দোকান করে সংসার চালানো। কিন্তু নেই, সেই চুপরি একটা ঘর করে একটা বেঞ্চি আর একটা চুলার জায়গা। দোকান চালানোর নিশ্চয়তাটুকু। যে যখন পারেন তাড়িয়ে দেন। এসবের মধ্যেই যুদ্ধ করে যাওয়া। এসবের মধ্যেই ছেলেকে ভাল স্কুলে পড়ানো সব মিলিয়ে যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

শহরের খতিব নগুয়া এলাকা যেটি  পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডে নতুন যুক্ত হয়েছে। সেখানে এক বোনের জায়গায় তৈরী করেন ছোট্ট একটি নীড়। বাস করেন তিনজন। দোলা আক্তার, ছেলে ও এক বোন মনি। ২১ টি বছর আগে প্রণয় হয় এক যুবক মাহবুবের সাথে। বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন দুজন। কিন্তু দুটি মাস যেতে না যেতেই স্বামীর সংসার ছাড়তে হয় দোলার। মাহবুবের ভালবাসা কমতে থাকে। পরিবারের লোকজনও তেমন সহ্য করেন না। এভাবে দিনের পর দিন অপমান আর সইতে না পেরে নিজের পায়ে দাড়াঁনোর সীদ্ধান্ত নেন। তাপপর ঢাকায় গিয়ে ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করেন। এরপর প্রায় একযুগ নেত্রকোনায় ফিরে আসেন। এক বোন মনির কাছ থেকে অন্তর নামের এক শিুশু পুত্রকে দত্তক নেন। ছেলেটির বয়স এখন ১১ কি ১২ হবে। সে চতুর্থ শ্রেনিতে পড়ে। সেই ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে আছেন তিনি। চায়ের স্টলই এখন তার ভাগ্য বিধাতা। (লেখক- একজন সাংবাদিক, কাজ করেন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায়)

 

 

 

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: