Bangla News Line Logo
bangla fonts
৪ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
জানিয়ার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোণায় পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু কেন্দুয়ায় জমি চাষের সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু কেন্দুয়ায় বিলে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু নেত্রকোণায় কেরাম খেলা নিয়ে পিটুনিতে যুবক নিহত

চলে গেলেন গোলাম এরশাদুর রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:2:30:26 PM07/07/2019


চলে গেলেন গোলাম এরশাদুর রহমান

একাত্তরের মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) নেত্রকোণা মহকুমা কমান্ডার, রাজনীতিক ও লেখক গোলাম এরশাদুর রহমান আর নেই।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

১৯৪৮ সালের ১০ জানুয়ারি  নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের নৌহাল এলাকায় সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া লোক সাহিত্য গবেষক  গোলাম এরশাদুর রহমান মারা যাওয়ার আগে জীবনের ৭১টি বছর অতিক্রম করেছেন।

জেলা জাসদের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় জাসদের সহসভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এরশাদুর রহমান নেত্রকোণা শহরের সাতপাইয়ে নিজের বাসায় শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন।পরে তাকে দ্রুত নেয়া হয় নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।

মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তার বাসভবনে ভীড় জমান শহরের সর্বস্তরের মানুষ।

গোলাম এরশাদুর রহমানের সহযোদ্ধা একাত্তরের বিএলএফর ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী জানান, বাদজোহর শহরের মোক্তারপাড়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে গার্ড অব অনার দেয়া হয় এই মুক্তিযোদ্ধাকে। পরে মরদেহ নেয়া রহয় গ্রামের বাড়ি মোহনগঞ্জের নৌহাল এলাকায়।সেখানে  বাদ আছর দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে ।

গোলাম এরশাদুর রহমান ১৯৬৬ সালে মোহনগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৯ সালে নেত্রকোণা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৭১ সনে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৬২ সালে তিনি মোহনগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
১৯৭০ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত তিনি নেত্রকোণা জেলা (তৎকালীন মহকুমা) ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি নেত্রকোনা জেলা মুজিব বাহিনীর (বি.এল.এফ) কমান্ডার ছিলেন।
১৯৭২ সালে তিনি জেলা জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই তিনি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন। জীবনে প্রায় অর্ধ শতাধিক নাটকে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

রাজনৈতিক কারণে তাকে বহুবার হুলিয়া মাথায় নিয়ে নেত্রকোণার প্রত্যন্ত গ্রামে-গঞ্জে পলাতক জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে। এতে গ্রামীণ জীবনের সাথে তাকে আরো নিবিড় সম্পর্ক তৈরিতে সাহায্য করেছে। তার এই পলাতক জীবনের অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তিনি লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও গবেষণা করেছেন । লিখেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সমূহ হলো- নেত্রকোণার বাউল গীতি, মুক্তি সংগ্রামে নেত্রকোণা, নেত্রকোণার লোক গীতি পরিচয়, নেত্রকোণার লোকায়িত গল্প গুজব।
উপন্যাস - সোমেশ্বরির তীরে।

মৃত্যুকালে স্ত্রী হাসিনা রওনক ও দুই ছেলে গোলাম কামরাজ কাফী, গোলাম সাদ্দাম রাফিকে রেখে গেছেন।

শোক :

 গোলাম এরশাদুর রহমানের মৃত্যুতে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এমপি, নেত্রকোণা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়, নেত্রকোণা পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান, জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মো: শামছুজ্জোহাসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়েছে।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: