Bangla News Line Logo
bangla fonts
৪ আশ্বিন ১৪২৬, বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২:৪১ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
নেত্রকোণায় গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার প্রশাসন সেই নারীর দায়িত্ব নেয়ার পর চিকিৎসা শুরু পূর্বধলায় আলোর ফেরিওয়ালা বিদুৎসংযোগ:১২৬ বাড়ি আলোকিত নেত্রকোণায় বাউল সাধক রশিদ উদ্দিনের স্মরণ উৎসব নেত্রকোণায় দুর্গাপুজা উদযাপনে সভা

গৌরবের তিন বছর অতিক্রম করল “হৃদয়ে কেন্দুয়া”


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম


গৌরবের তিন বছর অতিক্রম  করল “হৃদয়ে কেন্দুয়া”

 গৌরবের তিনটি  বছর অতিক্রম  করে চার বছরে পা রেখেছে নেত্রকোণার “হৃদয়ে কেন্দুয়া” সংগঠন। ৯  নভেম্বর , হৃদয়ে সংগঠনটির  তিন বছর পূর্তি হয়েছে ।

 ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর কিছু তরুনের হাত ধরে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা করে সামাজিক সংগঠন হৃদয়ে কেন্দুয়া। 

ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক দিয়ে একত্রিত হতে থাকেন আরো কিছু তরুন। যাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজের এলাকার জন্য ভাল কাজ করা, বলছিলেন, সংগঠনটির এডমিন- সোহাগ ।

তিনি বলেন, সময় এগোতে থাকে,  ধীরে ধীরে তরুনদের  দলটাও  বড় হতে থাকে।

সাথে   সামাজিক কাজেরও পরিধি বাড়তে থাকে। অল্প সময়ে মধ্যে সামাজিক সংগঠন হিসেবে আলোড়ন ফেলে দেয় কেন্দুয়া উপজেলা জুড়ে। শীতবস্ত্র বিতরণ , ঈদবস্ত্র বিতরণ স্বল্পমূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় , রক্তদান, মাদক বিরোধী র‌্যালী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কুইজ টেস্ট, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও দু:স্থদের সহযোগীতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।পাশাপাশি  নিজেদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে তুলে ধরছে হৃদয়ে কেন্দুয়া। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩০ টির মত ইভেন্ট করেছে সংগঠনটি । সংগঠনটির মূল লক্ষ্য কেন্দুয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য , সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি এলাকার দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ।

ফেসবুক ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ৩৫ জন এডমিন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ৭৯ হাজার সদস্য রয়েছেন এই গ্রুপে ।

এডমিন সোহাগ তার কাজের অভিজ্ঞতা বরতে যেয়ে বলেন,   অনেকে মনে করে সংগঠনে কাজ করা মানে সময় নষ্ট, পড়ালেখার ক্ষতি! আসলে এটা ভুল ধারণা । বরং সুস্থ সংগঠনগুলোতে কাজ করার মাধ্যমে ইতিবাচক গুণাবলি তৈরি হয়। দায়িত্বশীলতা বাড়ে। নেতৃত্বগুণ তৈরি হয়। একজন সংগঠন করা ব্যক্তি “সংগঠন না করা” ব্যক্তির চেয়ে আলাদা।’ সংগঠন মানুষকে সহনশীলতা শেখায়, একসঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াকেন্দ্রিক যা-ই হোক না কেন, তার নির্দিষ্ট মূল্যবোধ বা আদর্শ থাকে। সেই সংগঠনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ব্যক্তি যেমন নিজেকে বিকশিত করতে পারে, তেমনি সামাজিক সুস্থতাও আসতে পারে এই উপায়ে। হৃদয়ে কেন্দুয়া সংগঠন টি তরুণদের সংগঠন ,মানুষের বিশ্বাস , ভালবাসা এবং সহযোগিতায় আজ অনেক মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে সংগঠনটি । এই সংগঠনের শুরু থেকে একজন সদস্য হতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করি , কারন, এই সংগঠনে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের ভালবাসা । তিনি আশ্বস্থ করে বলেন, এই সংগঠনের সুনাম রক্ষার্থে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব । সেই সাথে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সোহাগ আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন , সবাই মিলে সুন্দর সমাজ গড়ি, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াই ।

সংগঠনটির আরেক এডমিন আসিফ আহমেদ বলেন,  তারুণ্যের শক্তিতে বলিয়ান “হৃদয়ে কেন্দুয়া" শ্লোগানকে সামনে রেখে কেন্দুয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধারণ করে। মা,মাটির সংস্কৃতিকে লালন করে গড়ে উঠেছে এই সামাজিক সংগঠন। সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলে সুন্দর সমাজ গঠনেই এর মূল লক্ষ্য। আমি এর একজন কর্মী হতে পেরে খুব গর্বিত মনে করি নিজেকে। সবার সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের সংগঠন। ভবিষ্যৎতেও ফেসবুক ভিত্তিক প্রাণের সংগঠন হৃদয়ে কেন্দুয়ায় সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগি হিসেবে পাশে থাকার আহবান জানান তিনি।

  আব্দুল্লাহ আল মামুনও সংগঠনের একজন এডমিন। তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জগত থেকে বাস্তব জগতে কাজ করছে হৃদয়ে কেন্দুয়া । প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কুইজ টেস্টের আয়োজন, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে খাতা কলম বিতরণ, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরিক্ষা, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, এতিম অসহায় শিশুদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ, সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রান বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নমনমূলক কাজ করে আসছে। এই সংগঠনের একজন হতে পেরে আমি গর্বিত। তিনি ধন্যবাদ জানান, এরকমএকটি সংগঠন তৈরীর জন্যে প্রতিষ্ঠাতা এডমিন সোহাগকে।এছাড়াও তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন,  যাদের উৎসাহ, ভালবাসা এবং সহযোগীতায়  প্রতিবছর কিছু সফল ইভেন্ট সম্পন্ন করতে পারছে সংগঠনটি।

সাদ্দাম হোসেন নামে আরেক এডমিন বলেন, কেন্দুয়ার ছেলেরাও এখন পিছিয়ে নেই।ফেসবুক ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন হৃদয়ে কেন্দুয়ার হাত ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মূলক কাজ করে যাচ্ছে এই প্রজন্মের তরুণেরা । তাদের এই কষ্ট বিফলে যাবে না ।জয় একদিন হবেই. ।.তাই আমরা সবসময়েই কেন্দুয়ার গরীব দুখি মানুষের পাশে থাকতে চাই। শুধু কেন্দুয়াই নয় সারা বাংলাদেশেই যেন এই রকম গরীব দুখি মানুষের পাশে থাকতে পারি। সেবাই মানুষের ধর্ম। সে জন্য চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের সেই সুযোগ করে দেন , যাতে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেত পারি । দোয়া এবং সহযোগিতা চাই।  আর আমাদের সংগঠনের এই রকম উন্নয়ন মূলক ও সমাজসেবার কাজ দেখে যেন সবার আগ্রাহ জাগে সেটাই চাই বলেন এডমিন সাদ্দাম হোসেন।


বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: