Bangla News Line Logo
bangla fonts
৪ আশ্বিন ১৪২৬, বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
নেত্রকোণায় গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার প্রশাসন সেই নারীর দায়িত্ব নেয়ার পর চিকিৎসা শুরু পূর্বধলায় আলোর ফেরিওয়ালা বিদুৎসংযোগ:১২৬ বাড়ি আলোকিত নেত্রকোণায় বাউল সাধক রশিদ উদ্দিনের স্মরণ উৎসব নেত্রকোণায় দুর্গাপুজা উদযাপনে সভা

কেন্দুয়ায় ৮৬টি শহীদ মিনারে প্রথমবারের মত ফুল দেবে শিক্ষার্থীরা *


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম


কেন্দুয়ায় ৮৬টি  শহীদ মিনারে প্রথমবারের মত ফুল দেবে শিক্ষার্থীরা *

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় ৮৬টি প্রাথমিক স্কুলে গত একবছরে নির্মিত শহীদ মিনারগুলোতে এবারই প্রথমবারের মত ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি। স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ, স্কুল ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে তৈরী হয়েছে ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে এসব শহীদ মিনার। এ ছাড়াও যে সব স্কুলে শহীদমিনার নেই এমনসব বিদ্যালয়গুলোতে চলছে শহীদমিনার তৈরীর কাজ।

যে সব স্কুল স্থাপনের পর থেকে  শহীদ মিনার ছিলনা এর মধ্যে উপজেলার সাজিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালাশ্রম, তেতুলিয়া , সাগুলি, আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।প্রায় ছয় মাস আগে গোপালাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত হয়েছে শহীদ মিনার।স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আকলিমা আক্তার। সে বলে, বইয়ে পড়েছে শহীদদের কথা। শহীদ মিনারের কথা। কোনদিন শহীদ মিনারে ফুল দেয়া হয়নি।এবার বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার হয়েছে।বাস্তবে দেখেছি।স্যারেরা শহীদ মিনারের কাছে এনে আমাদের সবাইকে শহীদদের কথা বলেছেন।তাদের আদর্শের কথা বলেছেন।এবার ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই স্যারদের সাথে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে ফুল দেব।শহীদদের শ্রদ্ধা জানাব। একই রকম কথা ইফরান, পাপ্পুসহ স্কুলটির অনেক শিক্ষার্থীর।    

উপজেলার গোপালাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কানন সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতেই তারা এই আয়োজনে সামিল হয়েছেন।এলাকাবাসিকেও শহীদ মিনার তৈরীর প্রয়ো্জনীয়তা বুঝিয়ে বললে তারাও এগিয়ে আসেন।এলাকার অনেকেই এই শহীদ মিনার নির্মাণে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, শিশুদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়তে এই শহীদ মিনার ভুমিকা রাখবে ।তিনি বাকি বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

স্থানীয় সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা বলেন, আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমের চেতনায় শাণিত করতে এই শহীদমিনার নির্মাণ জরুরি ছিল।প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদমিনার স্থাপনের নির্দেশনাও রয়েছে হাইকোর্টের জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, কোমলমতি শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবকটি স্কুলে শহীদ মিনার থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করবেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির আলম বলেন, শহীদ মিনার না থাকায় শহীদদের বিষয়ে ততটা উপলব্ধি করতে পারত না শিশুরা ।এ অবস্থায় উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের মহান এই উদ্যোগকে আমাদের সংগঠন থেকে স্বাগত জানাই।উপজেলায় সবস্কুলে শহীদমিনার তৈরীতে সকল শিক্ষক ও এলাকাবাসিকে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিতে সাংগঠনিকভাবে  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি অংশ নেয়।আমরা আশা করছি বাকি শতাধিক স্কুলেও আগামী এক বছরের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

 কেন্দুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমদাদুল হক বলেন,  উপজেলায় যেসব স্কুল স্থাপনের পর থেকে শহীদ মিনার নেই এমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় দুইশো । এ অবস্থায় ২০১৬ সালের শুরুতে  উদ্যোগ নেয়া হয় এ সব স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণের। উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের এই উদ্যোগে যুক্ত হয় উপজেলা শিক্ষা কমিটি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের  পরিচালনা পর্ষদসহ এলাকাবাসি।

তিনি আরো বলেন, সবার সম্মিলিত চেষ্টায় বিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিলের টাকা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মাধ্যমে এলাকাবাসির অর্থিক সহযোগিতায় শুরু হয় শহীদ মিনার তৈরীর কাজ। একই মাপের প্রতিটি শহীদ মিনারের বাজেট ধরা হয় ৩০ হাজার টাকা ।এভাবে গত এক বছরে প্রাথমিক স্কুলে নির্মিত ৮৬টি শহীদ মিনারে এবার প্রথমবারের মত ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে শহীদদের সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবসি।

উপজেলায় আরো প্রায় একশো ১৫টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। কাজ চলছে।বাকি সবকটি স্কুলেই আগামী এক বছরের মধ্যে শহীদ মিনার তৈরী করা হবে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমদাদুল হক ।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: