Bangla News Line Logo
bangla fonts
২৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
নেত্রকোণায় হুমায়ূন আহমেদ’র জন্মদিনে নানা আয়োজন নেত্রকোণায় শুরু রাস উৎসব দুর্গাপুরে মুক্তি চেতনায় ৭১’র প্রথম বর্ষপূর্তিতে গুনীজন সংবর্ধনা কলমাকান্দায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নেত্রকোনায় ড. হুমায়ুন আহমেদের ৭১ জন্ম বার্ষিকী পালিত

কলকাতায় সাধারণ পাঠাগারের সাংস্কৃতিক উৎসব


বাবুল সাহা। কলকাতা থেকে, বাংলানিউজলাইন ডটকম:1:00:05 PM02/03/2019


কলকাতায়  সাধারণ পাঠাগারের  সাংস্কৃতিক উৎসব

কলকাতার উত্তর দমদম সাধারণ পাঠাগারের পরিচালনায় নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে, উত্তর দমদম পৌরসভার ‘‘তরুণ সেনগুপ্ত স্মৃতি ভবন’’ এ পালিত হল ২৭ জানুয়ারী বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসব।
বিশিষ্ট সমাজ সেবক সঞ্জয় চৌধুরী‘র সঞ্চালনায় এই বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসবের সভাপতিত্ব করেন শক্তিব্রত গুহ রায়। প্রধান অতিথি ছিলেন ডঃ অরুনোদয় মন্ডল। এই অনুষ্ঠানে পাঠাগারের পক্ষ থেকে তাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
কর্মসূচীর শুরুতে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে এই পাঠাগারের সংগীত বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ছিল নাচ,ছোটদের ছড়ার গান, কবিতা আবৃত্তি ,নৃত্যনাট্য ,চিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি।
সুমিতা সেনগুপ্ত সংকলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘‘বীর পুরুষ’’ নৃত্যনাট্য, দেবাশীষ সেনগুপ্ত পরিচালনায় ‘‘মেয়েদের কথা’’ কবিতা আলেখ্য ছিল উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও পাঠাগারের পক্ষ থেকে একটি স্মারক গ্রন্থ ‘রেখা ও লেখা’ প্রকাশিত হয়েছে।
বাৎসরিক অনুষ্ঠানের সভাপতি শক্তিপদ গুহ রায় তার ভাষনে বললেন ১৯৭৭ সালেন ১৮ সেপ্টেম্বর বিরাটি কলাবাগানে যুবগোষ্ঠি প্রদত্ত ছোট্র একফালি জমির উপর পাঠাগারের সূচনা। এর আগে এই এলাকায় কোন পাঠাগার ছিল না। ১৯৭৮ সালে কয়েকটি নাট্য-গোষ্ঠি‘র সহযোগিতায় নাটক মঞ্চস্থ করে কিছু অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ইতিপূর্বে দূর্গাপূজা মন্ডপগুলিতে কৌটা মেড়ে সংগৃহীত হয় মাত্র তেষট্রি টাকা। সর্বমোট সংগৃহীত অর্থে সংলগ্ন জমি ক্রয় করে মূলি বাঁশের বেড়া ও টালির ছাদ দিয়ে ঘড় তৈরী। ১৯৭৮ সালেন ১৫ আগষ্ট প্রখ্যাত সাহিত্যিক নারায়ন স্যান্যালেন উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন হল গ্রন্থাগারের সাধারণ বিভাগ। ১৯৮৪ সালে দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খোলা হয় পাঠ্যপুস্তক বিভাগ। প্রায় ১৫ বছর এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে। বছর বছর সিলেবাস পরিবর্তন ও পুস্তকের অত্যাধিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে এই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৩ সালে গ্রন্থাগারের মূলি বাঁশের বেড়ার পরিবের্তে  ইটের দেয়াল দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু চাল হয় টিনের। ১৯৮৪ সালে গ্রন্থাগার ভবনে আর্ট স্কুল খোলা হয়। ক্রমে ক্রমে তবলা শিক্ষা ,আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষাদানেরর বিভাগ খোলা হয়। ২০০৪ সালের ২৩ জানুয়ারি দ্বিতল গৃহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। প্রতি বছর ২৩জানুয়ারী থেকে ৩দিনব্যাপি অংকন, চিত্রকলা প্রভৃতির প্রদর্শনী এবং তরুন সেনগুপ্ত স্মৃতিভবনে বড় মাপের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ গ্রহন করে।
এই অনুষ্ঠানে যাদের সহযোগিতায় প্রনবন্ত ছিল ,সঙ্গীতে ঈষা সাহা, স্বরুপা হালদার, সৃজা সরকার, অঙ্কুশপাত্র, শুভন্তর চক্রবর্তী, সন্দীপ সরকার , শ্রেয়শ্রী সাহা, শালমলি সাহা সর্দার, অলোক কুমর চক্রবর্তী। কত্থক নৃত্য শালিনী মূখার্জী, ান্কনা মূখার্জী, বর্ষা ধর, অঙ্কিতা দাস, আদ্রয়েনী দত্ত রায়, জিতিকা চক্রবর্তী, অয়ন্তিকা মজুমদার, ঈষিকা দাস, শ্রীতমা কুন্ড, ত্রিজাম আহামেদ, রুমালি সিংহ রায়, আদ্রিতা পাল, আর্শি রায়, কানুশী রায়, ¯িœগ্ধা পাল, রিতিশা মল্লিক, আয়ুশী দে, বিশাখা চৌধুরী, মধুমন্তী সরকার, অর্পিতা মল্লিক, তৈশী সিংহ রায়, ত্রিশা সিংহ রায়, সানভি রায়, সুমি দে, প্রান্তিকা রায়, প্রার্থনা রায়, শর্মিলা দত্ত, অনুস্কা সাহা, পূজা বাছার, কৃষ্ণা দাম। ভারত নাট্যম নৃত্যে সৃষ্টি চক্রবর্তী, শুভশ্রীরাম, গায়েত্রী চৌধুরী, চান্দ্রেীয় দাস, স্পৃহা শ্রী বাস্তব, শালমলি মজুমদার, বিনিতা কুন্ডু, সন্দীপ্তা কর, মেগান দেবনাথ, প্রিয়াংকা বসাক, দিশাকুন্ডু, অর্পিতা চৌধুরী, তনুশ্রী চ্যাটার্জী, সৃজনী মজুমদার, শ্রীজা মন্ডল, সৌমিলি সাহা, আত্রেযী পাল, অনন্যা দাস, আদ্রিতা সেনহুপ্ত, সংগীনি মিত্র, অর্জিমা দাস দে, বিদিশা পোদ্দার, শারদীয়া চৌধুরী , সুদীপ্তা রায় মুহুরী। আবৃত্তিতে বর্নালী বিশ্বাস, মানু দাস, কাকলী ঘোষ, মৌসুমী দত্ত, কৃষ্ণা রায়, অনুস্মা চক্রবর্তী, কৃত্তিকা কর্মকার, সুকন্যা সাহা, আরিয়মান বড়াই, সরন্যা দে জোয়ারদার। শিক্ষক- শিক্ষিকা সংগীতে স্বপন সরকার, কত্থক নৃত্যে ঝুমা মূখার্জী, ভরত নাট্যম নৃত্য সুদীপ্তা রায় মহুরী, আবৃত্তিতে দেবাশীষ সেনগুপ্ত। তবলায় মুকুট ব্যানার্জী, কিবোর্ডে নরেন মিত্র, পারকারশনে উত্তম চক্রবর্তী।
পাঠাগারের যুগ্ম সম্পাদক পরিতোষ লোধ, অমিতাভ মিত্র - বলেন, নানা ওঠা পড়ার মাঝেও উত্তর দমদম সাধারণ পাঠগারের বার্ষিক পত্রিকাটির প্রকাশ ও তা উন্নতি করনের চেষ্ঠাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাঠগারের সন্মূখে রাজা রামমোহন রায়ের একটি মূর্তি ছিল। ২০১৮ সালের ৯ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপনার কাজ সমাধা হয়েছে। পাঠগার এবং সমাজ সম্মিলনীর যৌথ প্রচেষ্ঠায় এ কাজ করা সম্ভব হয়েছে। এই জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
পাঠাগারের সভাপতি সুপ্রকাশ বসু বলেন, বিরাটি কলাবাগানে ৪০ বছর পূর্বে এই পাঠাগার সৃষ্টির পথ পরিক্রমায় এলাকায শিশু কিশোরদের কথা মাথায রেখে ,সরকারী অনুদান ছাড়াই বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে অন্যেদের সহযোগিতায় প্রতি বছর শিশু মনের বিকাশ ঘটানোর জন্য বা দূরারোগ্য রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশে সচেতনতা শিবির সংগঠিত করে থাকেন। ছোটদের নাট্য শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে ‘রব-অরব’ নাট্য সংস্থার তত্ত¡াবধানে। তিনি আরও জানান প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে । পাঠগারের সদস্যেদের মধ্যে এর ব্যাতিক্রম নেই। এই সংগঠনকে আরও ভালভাবে পরিচালনা করার জন্য বেশ কিছু তরুন স্বেচ্ছা কর্মীর সংখ্যাটা বাড়লে কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। সবশেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সার্বিক কর্মসূচী বাস্তবায়নে যাদের ভূমিকা ছিল তারা হলের পাঠাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা বিজয় সিন্হা, চন্দন সরকার, শেখর চৌধুরী, বিজয় দে, পূজাশ্রী ভদ্র, কমল ব্যানার্জী, অরুপ মূখার্জী, শর্মিষ্টা সাহা, শ্যামা প্রসাদ দে , পিন্টু গুপ্ত মালতী সাহা সহ অন্যান্যরা।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: