Bangla News Line Logo
bangla fonts
১৫ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
চীনে আবার বিদেশী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেশে নতুন আক্রান্ত নেই, ৪ জন সুস্থ মিরপুরে বাসায় আগুন, নিহত ৩ মানুষ এ যুদ্ধেও বিজয়ী হবে -প্রশান্ত কুমার রায় করোনা:নেত্রকোণায় সেনাসদস্য, রেডক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচারণা

করোনা সর্বশেষ:দেশে আক্রান্ত বেড়ে ১৭,নতুন করে চীনে আক্রান্ত নেই


নিউজডেস্ক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:1:28:15 PM03/19/2020


করোনা সর্বশেষ:দেশে আক্রান্ত বেড়ে ১৭,নতুন করে চীনে আক্রান্ত নেই

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে নতুন করে আরও তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। নতুন ৩ জনসহ দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

আবুল কালাম আজাদ জানান, নতুন করে আক্রান্ত তিনজনই একই পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। আক্রান্ত ওই নারীর বয়স ২২ বছর। পুরুষ দুইজনের মধ্যে একজনের বয়স ৬৫ এবং অপর জনের বয়স ৩২ বছর।
 
উল্লেখ্য, আক্রান্ত সতেরো জনের মধ্যে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩ জন। ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনায় প্রথমবারের মতো কোনও ব্যক্তি মারা গেছেন। করোনায় মৃত ওই ব্যক্তির বয়স ছিল ৭০ বছর।
সুখবর : নতুন করে চীনে আক্রান্ত হননি কেউ :
বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসে মানবজাতি বিপর্যস্ত। করোনার থাবায় বিশ্বে প্রাণ হারিয়েছেন আট হাজার ৯২৫ জন মানুষ। ১৭৩টি দেশে ছড়িয়েছে মরণঘাতী এ ভাইরাস।

এ সময় সুখবর এলো, ভয়ঙ্কর এ ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন মারা গেলেও নতুন করে আজ আর কেউ আক্রান্ত হননি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কমিশন জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন। আগে থেকেই আক্রান্ত হওয়া ৩৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর একদিনে চীনে কেউ আক্রান্ত না হওয়ার ঘটনা ঘটল এই প্রথম।
 
করোনায় মৃতের সংখ্যা ৮৯৬১
 
করোনা ভাইরাসে নাস্তানাবুদ সারা বিশ্ব। থামছে না মৃত্যুর মিছিল। বরং একের পর এক আক্রান্ত হয়ে চলেছে নতুন নতুন দেশ।বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে মারা গেছে ৮ হাজার ৯৬১ জন। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৫ হাজার ৬৭৩ জন।

চীনের চেয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বাড়তে থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়াসিস ঘোষণাটি দেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুধু চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৯২৮ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৪৫ জনের। চীনের পর সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে একদিনেই ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭৮ জনে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হাজার ৭১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার।

এর পরের অবস্থান ইরানের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩৬১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাছাড়া মারা গেছেন ১১৩৫ জন।

এ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৭১ জন, আর প্রাণ গেছে ১৫৩ জনের। স্পেনে আক্রান্ত ১৪ হাজার ৭৬৯ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৩৮ জনের। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩ হাজার ১১৫ এবং মারা গেছেন ৩৩ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২ হাজার ৬২৬ ও মৃতের সংখ্যা ১০৪। তাছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক লোক প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অপরদিকে প্রথমবারের মতো মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পাশাপাশি প্রাণ গেছে একজনের। তাছাড়া কোয়ারেন্টাইনে আছেন আরও অনেকে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশফেরত।
 
ইতালিতে একদিনে ৪৭৫ জনের মৃত্যু:
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে ইতালিতে এবং দেশটিতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড এটি।

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালির দক্ষিণের শহর লম্ববার্ডি । একদিনে সেখানে মারা গেছেন ৩১৯ জন।

ইতালিতে চায়নার পর করোনার ছোবল সবচেয়ে বেশি। গত ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হেয়েছে ৮ হাজার ৭৫৮ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ।   

ইতালিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায়  মারা গেছে দুই হাজার ৯৭৮ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৭১৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার জন। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির 
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে কীটের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার :
 
ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস টেস্টিং কীট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। দুদিন প্রতিষ্ঠানটি সরকারের অনুমতি অপেক্ষায় ছিল। তবে সরকার আজই কিছুক্ষণ পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে কীটের কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারের ওষুধ প্রশাসন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বশীল সূত্র একটি মিডিয়াকে বিষয়টি জানিয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, সরকার আজ সকাল ৯টায় অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। তবে তাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে৷ দুয়েক ঘন্টার মধ্যে অনুমতি পাওয়ার আশা করছেন তারা।

এর আগে গতকাল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকার যাতে করোনাভাইরাস টেস্টিংয়ের জন্য আবিষ্কৃত কীটের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বোঝে। আশা করি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনুমতিটা সরকার দিয়ে দেবে। পরে দিলে আমাদের হাতে আর তেমন কিছু করার সময় থাকবে না।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, হাতে সময় থাকলে আমরা কিছু সামগ্রী অর্ডার করতে পারব। যুক্তরাজ্য থেকে কাঁচামাল আনতে সহজ হবে। এটা তৈরি, স্পেশাল প্যাকিং ও কুরিয়ারসহ যাবতীয় প্রসেসিংয়ের জন্য ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগবে। তারপর তা নিয়ে আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাজ করে দশ দিনের মধ্যে নমুনা কীট তৈরি করতে পারব। আর ১ মাসের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার কীট বাজারে সরবরাহ করতে পারব। প্রথম মাসে ১০ হাজার পরের মাস থেকে ১ লাখ কীট সরবরাহ করতে পারব। যা বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত হবে।

এর আগে মঙ্গলবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই কীটের প্রত্যেকটির জন্য খরচ পড়বে ২০০ টাকার মতো। দেশে উৎপাদিত এই কীটের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল পেতে কয়েক ঘণ্টা থেকে দুইদিন সময় লাগতে পারে।

নভেল করোনাভাইরাস সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের পরীক্ষার জন্য টেস্টিং কীট উদ্ভাবনের প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সিঙ্গাপুর ও গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রর একটি গবেষক দল মিলে এটি আবিষ্কার করেছে। দেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার কীটের যে সঙ্কট আছে তা এই আবিষ্কারে দূর হবে বলে আমরা আশা করি। তবে সরকারের উচিত এমন নিয়ম করা যাতে জনগণ মাত্র ২০০ টাকায় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করতে পারে।

গণস্বাস্থ্য সূত্রে জানা গেছে, এই কীট উৎপাদনে কাজ করেছেন ড. বিজন কুমার শীল, ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ জমির উদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: