Bangla News Line Logo
bangla fonts
১৫ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
চীনে আবার বিদেশী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেশে নতুন আক্রান্ত নেই, ৪ জন সুস্থ মিরপুরে বাসায় আগুন, নিহত ৩ মানুষ এ যুদ্ধেও বিজয়ী হবে -প্রশান্ত কুমার রায় করোনা:নেত্রকোণায় সেনাসদস্য, রেডক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচারণা

এবার সব ক্যানসারই সারানো যাবে


নিউজডেস্ক, বাংলানিউজলাইন ডটকম:1:53:21 PM01/25/2020


এবার সব ক্যানসারই সারানো যাবে
 

মানুষের ক্যানসারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নাই। এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। সম্প্রতি আলোর মুখ দেখিয়েছেন এক দল গবেষক। প্রস্টেট, স্তন, ফুসফুস, রক্ত, ত্বক, অন্ত্র-সহ প্রায় সব ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলার একটি অভিনব উপায় প্রথমবারের মতো বের করেছেন গবেষকরা।

কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অবশ্য সফল হয়েছেন গবেষণাগারে ইঁদুর ও কোষের উপর চালানো পরীক্ষানিরীক্ষায়। মানুষের উপর এখনও সেই পদ্ধতির প্রয়োগ হয়নি। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-ইমিউনোলজি’-র সাম্প্রতিক সংখ্যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনে মানুষের উপর পরীক্ষাতেও সাফল্য এলে ক্যানসার চিকিৎসায় এই পদ্ধতিই সেরা বলে বিবেচিত হবে। গবেষকদের আশা, মানুষের ক্ষেত্রেও এই অভিনব পদ্ধতি প্রয়োগ করলে ক্যানসার চিকিৎসায় তা দিক-নির্দেশক হয়ে উঠবে।

গবেষকরা কাজ করেছেন আমাদের দেহের বিশেষ এক ধরনের প্রতিরোধী কোষ নিয়ে। দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) গড়ে ওঠে যে কোষগুলি দিয়ে। এই কোষগুলি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য দেহের নিজস্ব প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে গড়ে তোলে। আবার, সেগুলি ক্যানসারে আক্রান্ত কোষগুলিকেও (টিউমার) আক্রমণ করে। মেরে ফেলতে পারে।

প্রতিরোধী কোষগুলি যে যে ভাবে ক্যানসার বা নানা ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত কোষগুলিকে আক্রমণ করে বলে এখনও পর্যন্ত আমাদের জানা আছে, কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন, সেই সব ছাড়াও অন্য কোনও উপায় রয়েছে কি না ক্যানসার কোষগুলিকে আক্রমণের ক্ষেত্রে। প্রতিরোধী কোষের আক্রমণের যে কলাকৌশলগুলি এখনও আমরা জানতে পারিনি।

খুঁজতে গিয়ে আমাদের রক্তে থাকা এক ধরনের প্রতিরোধী কোষের উপর নজর পড়ল গবেষকদের। যার নাম- ‘টি সেল’। এদের কাজ আমাদের শরীরটার ‘স্ক্যান’ করা।

কোনও সংক্রমণের ঝড়ঝাপ্টার মুখে পড়তে চলেছে কি না আমাদের শরীর, স্ক্যানিং-এর মাধ্যমে আগেভাগে সেটা আঁচ করা। তার পর সেই সংক্রমণকে কী ভাবে রোখা যায়, তার ব্যবস্থা নেওয়া। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

 

গবেষকদের অন্যতম কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু সিওয়েল জানান, ‘‘আগে এটা আমরা কেউই বিশ্বাস করতাম না। এটা সম্ভব বলে মনেও হয়নি কোনও দিন ক্যানসার বিজ্ঞানীদের। এখনকার চিকিৎসায় কোনও একটি ক্যানসারের ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি অন্য ধরনের ক্যানসার সারাতে বা কমাতে কাজে লাগে না। কিন্তু এই পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক ধরনের ক্যানসার সারানো সম্ভব হতে পারে। তাই আমাদের বিশ্বাস, মানুষের উপর পরীক্ষায় সাফল্য এলে এই পদ্ধতিকে ব্যবহার করে ক্যানসার চিকিৎসার নতুন নতুন ওষুধ বাজারে আসতে দেরি হবে না।’’

সিওয়েল এও জানিয়েছেন, এই বিশেষ ধরনের টি-সেল আর তার রিসেপ্টর ফুসফুস, ত্বক, স্তন, রক্ত, অন্ত্র, হাড়, প্রস্টেট, ওভারি (ডিম্বাশয়), কিডনি ও সার্ভাইক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত কোষগুলিকে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছে আক্রমণ করতে পারছে। তাদের মেরেও ফেলতে পারছে। আর সেটা করতে গিয়ে ক্যানসার কোষের আশপাশে থাকা সুস্থ, স্বাভাবিক কোষগুলিকে তারা মেরে ফেলছে না। ক্যানসারের চালু চিকিৎসা পদ্ধতির বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হয়। ক্যানসার কোষগুলিকে মারতে গিয়ে সুস্থ কোষগুলিকেও মেরে ফেলা হয়। এই পদ্ধতিতে সেটা হচ্ছে না।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: