Bangla News Line Logo
bangla fonts
৪ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২:২১ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
জানিয়ার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোণায় পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু কেন্দুয়ায় জমি চাষের সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু কেন্দুয়ায় বিলে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু নেত্রকোণায় কেরাম খেলা নিয়ে পিটুনিতে যুবক নিহত

ঈদ : কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনে আ.লীগ-বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম


ঈদ : কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনে আ.লীগ-বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা  দৌড়-ঝাঁপ করছেন। ঈদকে সামনে রেখে তারা গণসংযোগে নেমেছেন রমজান মাস শুরুর আগ থেকেই।

দলের তৃণমূল নেতাদের সমর্থন পেতে তারা এরই মধ্যে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং এলাকায় জনপ্রিয় ও জনসম্পৃক্ত হতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। অনেকেই কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের জন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় ইফতার মাহফিলও করেছেন। প্রার্থীর অনুসারীরা পোস্টার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে এলাকায় শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক)  প্রার্থীদের কর্মকান্ড প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

 এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া অন্য কোন দলের শক্তিশালী প্রার্থী নেই। আগের বেশ কয়েকটি জাতীয়  নির্বাচনের আগে  এ আসন থেকে প্রায় দেড় ডজন নেতা মনোনয় প্রত্যাশী হতে দেখা গেছে। তারা নির্বাচনের দুই বছর আগে থেকে বিভিন্ন ভাবে এলাকায় জানান দিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতেন। কিন্তু এবারের চিত্রটা কিছুটা আলাদা দেখা যাচ্ছে।

আ.লীগ দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, আগামী একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে যারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন  তারা হলেন -আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। জাতীয় পর্যায়ের এই নেতা দেশজুড়ে যেমন জনপ্রিয় তেমনি এলাকায়ও জনপ্রিয়। এই আসন থেকে জাতীয় পর্যায়ে কোন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হওয়ায় এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নযন হযনি।এসব বিবেচনায় কর্মীসহ এলাকার ভোটারেরা তাকিয়ে আছেন এই নেতার দিকে বলছেন স্তানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন। সাবেক সংসদ সদস্য ও যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিলও জনপ্রিয়তায় স্বামী অসীম উকিলের ঘারে শ্বাস ফেলছেন।দলীয় সাধারণ কর্মীদের কাছে তিনি মমতাময়ী।

এলাকায় জোরকদমে গণসংযোগ করছেন, আওয়ামী লীগ নেতা সামছুল কবীর খান।বর্তমান সংসদ সদস্য ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু ও সাবেক সাংসদ মঞ্জুর কাদের কোরাইশী , বঙ্গবন্ধুর সহচর ও সাবেক চারবারের সাংসদ এডভোকেট এম জুবেদ আলী পুত্র আমিরুল ইসলাম তুষারও মাঠে আছেন। গণসংযোগে তারাও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে শিল্পপতি ও জনতা ব্যাংকের পরিচালক নাগিবুল ইসলাম দিপু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মতিন রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায়।

অপর দিকে বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে এমন আভাস তারা বুঝতে পারছেন।এ প্রেক্ষিতে তাদেরও সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন । তারা বলছেন এবার আর এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেয়া হবে না।রমজান মাসের শুরুতেই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের টিকিটে নির্বাচনী যুদ্ধে নামতে যারা গণসংযোগ করছেন তারা হলেন- ২০০৮ সালে চার দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হয়ে যিনি পরাজিত হয়েছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এবারও প্রার্থী হতে চান। স্তানীয় কর্মীরা বলছেন, তিনি জাতীয় পর্যায়ের নেতা। নির্বাচনও জাতীয়। তাকেই তারা দেখতে চান এখানে প্রার্থী হিসেবে। এ ছাড়া প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য পদে লড়তে মাঠে দিন-রাত গণসংযোগ করছেন কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া। বিএনপি কর্মীদের দাবি দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া ইউনিয়ন পরিষদে, মেয়র পদে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে অভ্যস্ত। বার বার জয় ছিনিয়ে এনেছেন। বিগত দিনের নির্বাচনী অভিজ্ঞতাকে তিনি কাজে লাগাতে পারবেন।

 বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা সৈয়দ আলমগীরও এখানে প্রার্থী হতে চান। তবে তিনি এখনও জোরকদমে মাঠে নামেননি বলে জানান দলীয় নেতা-কর্মীরা।

এছাড়া বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আহমেদ খান এফসিএ, সাবেক সাংসদ প্রয়াত নুরুল আমীন তালুকদারের পুত্র রায়হান আমীন তালুকদার রনিও ধানের শীষ নিয়ে লড়তে চান এই আসনে।

অপর দিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় এ আসনে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা জসিম উদ্দিন ভূইঁয়া। ওই নির্বাচনে তিনি নিজ কেন্দ্রেই চরম ভরাডুবি হয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তিনি আর এলাকায় আসতে দেখা যায়নি।

স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল। পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনে আসনটি চলে যায় বিএনপির কব্জায়। এর পর জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা হলে তাদের দখলে থাকে কিছু দিন। এর পর আবার আওয়ামী লীগের দখলে আসে এ আসনটি। চলে দুই সংসদ মেয়াদ । ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপি আবার জয় পায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপিসহ চার দলীয় জোটের ভরাডুবি হলে  এ আসনটিতে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী মঞ্জুর কাদের কোরাইশীর কাছে হেরে যান  রফিকুল ইসলাম হিলালী ।

এলাকায় কাঙ্খিত উন্নয়ন না হওয়ায় ইদানিং প্রায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা মঞ্চে বক্তৃতাকালে বর্তমান সাংসদ ইফতিখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু  সম্পর্কে ব্যাপক সমালোচনা মূলক বক্তব্য রাখছেন। সাংসদকে জনবিচ্ছিন্ন  হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। দুই ভাগে বিভক্ত কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগকে এক কাতারে আনতে সংসদ সদস্য কোন ভূমিকাই নেননি বলে অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাব।

অপর দিকে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক দুই ভাগে বিভক্ত। এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। বিএনপির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে দুরত্ব আরও বেড়ে যায় ।

 আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা অসীম কুমার উকিল বলেন, এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে থাকতে চাই।  সময়-সুযোগ পেলেই তাদের কাছে ছুটে যাই। আমরা রাজনীতি করি, আমদের শক্তিই জনগণ। তাই যত বেশি জনগণের পাশে থাকা যায়, সেই চেষ্টা করি। সাধ্যমত দলের হয়ে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় মনোনয়ন পাওযার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি জানিয়ে তিনি বলেন, দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন দলীয় সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করব।

 বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, বিএনপির একজন কর্মী হয়ে এলাকার জনগণের সেবা করার চেষ্টা করি সব সময়। যতটুকু সম্ভব পাশে থাকি। এলাকার মানুষ আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে।  বিএনপির চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জন-সম্পৃক্ত হতে সব নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এলাকায় জনগণের পাশে থেকে তার নির্দেশ পালন করছি। দলের চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাকেই মনোনয়ন দেবেন আমরা তারই নির্বাচন করব।

 স্তানীয় পর্যায়ে বিএনপির আরেক শক্তিশালী নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া বলেন, আমি তিন দশকেরও বেশি ধরে নির্বাচন করছি। বার বার স্তানীয় নির্বাচনগুলোতে জয় ছিনিয়ে এনেছি। পরাজয় কি তা আমার জানা নেই। নির্বাচনী যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নির্বাচনে আমিই মনোনয়ন পাব।আমি আমার নির্বাচনী অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই।ধানের শীষের জয় আনতে চাই।আসনটি খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে চাই বলেন দেলোয়ার হোসেন।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: