Bangla News Line Logo
bangla fonts
১২ মাঘ ১৪২৭, মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
গৃহহীনদের লাঞ্ছনা দিনের অবসান কেন্দুয়া-মোহনগঞ্জে নৌকার বিপুল জয়ে প্রশান্ত’র অভিনন্দন নেত্রকোণা পৌরসভা: ইভিএমের ভোটে ৬৬ প্রার্থীতা মোহনগঞ্জ পৌরসভায় আ. লীগ প্রার্থী জয়ী কেন্দুয়া পৌরসভা আবারো আ. লীগের দখলে

“আমারে মা কইয়া কেলা ডাকবো”


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম: 1:51:41 PM01/12/2021


“আমারে মা কইয়া কেলা ডাকবো”

“আমারে মা কইয়া কেলা ডাকবো।আমার পুতরে পুত । কই গেলোরে আমার পুত। বেইন্যাঅক্ত ( ভোরবেলা) ক্ষেতে রোয়া লাগাইত গেছে । আর আইতোনারে আমার পুত, কি কইয়া গেলারে পুত। আমার পুতেরে তোমরা আইন্যা দেও। আমার পুতের দমডা কিবায় গেলোরে। ”
 একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন,সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত  নেত্রকোণা সদর উপজেলার মৌজেবালি গ্রামের কৃষক এমদাদুল হকের  মা রাজবানু আক্তার।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে নেত্রকোণা সদর উপজেলার মৌজেবালি এলাকায় লরি চাপায় ২জন নিহত ও তিনজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে এমদাদুল হক (৩০) একজন। এমদাদুলের সাথে ঘটনাস্থলেই নিহত অপরজন  হলেন, সদর উপজেলার শিবপ্রদাসপুর গ্রামের ভ্যান চালক সেলিম মিয়া (২৮)। আর আহতরা হলেন, মৌজেবালি গ্রামের মস্তু মিয়া (৩৫), মিন্টু মিয়া ( ২৭) ও সেলিম মিয়া (৫০)।আহতদের নেত্রকোণা সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হলে দুইজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাজবানু আক্তারের বাড়িতে এলাকার মানুষের ভীড়। রাজবানুর ছেলে কৃষক এমদাদুলের অনাকাংখিত এই মৃত্যুতে এলাকার মানুষও শোকে মূহ্যমান। অনেককে চোখের জল মুছতে দেখা গেছে।
এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এমদাদুল খুউব মিশুক আছিলো।সবাইর সাথে বালা কইরা কথা কইতো। এইবায় হের চইল্যা   যাওনডা মাইন্যা নিতারতাছিনা।” মৌজেবালি গ্রামের সিদ্দিক মিয়া সকাল বেলা এমদাদুলকে দেখে গেছেন বোরো ধানের চারা নিয়ে জমি রোপন করতে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “এমদাদ বাইচতলের বন্দে বোরো রোয়া লাগাইতে যাইতাছিন। ইকটু পরেই হুনি এমদাদুলরে লরি ধাক্কা দিয়া মাইর‌্যা ফালছে। আহারে, তরতাজা ছ্যারাডার জীবনডা কাইর‌্যা নিল। গরীব সংসারডার হাল দরছিল এমদাদ। অহন কি আইব সংসারডার। সব্বনাশ অইয়া গেল।”
একই অবস্থা নিহত ভ্যানচালক সেলিম মিয়ার বাড়িতেও। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে স্বজন ও এলাকাবাসির মাঝে শোকের মাতম। সেলিম মিয়ার বাবা মোস্তফা মিয়া। ছেলের মৃত্যুতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। মা রোকেয়া আক্তার ছেলের লাশের পাশে বসে বিলাপ করছেন। তিনি বিলাপ করতে করতে বলছিলেন,“ হায়রে, ভোরে খাওয়াইয়া দিছি। আর তোমারে খাওয়াইতে পারতাম না। শেষ খাওন খাইয়া গেলিরে পুত। আমার পুতেরে এরা কিবায় মাইরালছে।”
মৃত্যুর খবরে এলাকার মানুষ ছুটে যাচ্ছেন সেলিম মিয়ার বাড়িতে।সেখানেও মানুষের মুখে মুখে সেলিম মিয়ার নানা স্মৃতির কথা ঘুরে ফিরছে।
এলাকার বাসিন্দা আয়েস উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমরার এলাকাতে সেলিমের মতো ভালা মানুষ পাওনডা মুশকিল।কারও কাঁচা আইলো পাও দিছেনা কোনো দিন। এমন মানুষডার কপালে এইডা কি অইলো।”
 নেত্রকোণা মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নেত্রকোণা-মদন সড়কের মৌজেবালি গ্রামে রাস্থা থেকে তিন ফুট দুরত্বে  একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চা খেতে খেতে আগুন পোহাচ্ছিলেন কয়েকজন। এদের সাথে যোগ দেন মুরগীবোঝাই করে নেত্রকোণা সদরের দিকে যাওয়া ভ্যানচালক সেলিম মিয়া।এসময় আকস্মিকভাবে  নেত্রকোণা শহর থেকে লক্ষীগঞ্জ বাজারগামী একটি বালু বোঝাই লরি ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এসময় লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আগুনপোহানো লোকদের চাপাদিয়ে দোকানঘরটি ভেঙ্গে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এমদাদুল হক ও সেলিম মিয়া প্রাণ হারান।আহত হন তিনজন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহতদের মধ্যে মস্তু মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসি আরো জানান, লরিটি এখনও খাদে পড়ে আছে। লরির চালক পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তছাড়াই  নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে। নিহতদের স্বজন বা আহতদের  পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হলে থানায় মামলা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: