Bangla News Line Logo
bangla fonts
৪ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
facebook twitter google plus rss
সর্বশেষ
জানিয়ার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোণায় পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু কেন্দুয়ায় জমি চাষের সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু কেন্দুয়ায় বিলে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু নেত্রকোণায় কেরাম খেলা নিয়ে পিটুনিতে যুবক নিহত

আট ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের স্বীকার মাওলানা খায়েরের


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলানিউজলাইন ডটকম: 5:40:36 PM07/06/2019


আট ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের স্বীকার মাওলানা খায়েরের

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষককে স্থানীয়রা পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়ার পর দ্বিতীয় শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগের কথা বললেও পরে পুলিশ বলেছে এটি ধর্ষণের ঘটনা। থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুইটি ধর্ষণ মামলা হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষক মোট ৮ শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করারও ভাষ্য পুলিশের।

 শুক্রবার সকালে কেন্দুয়া পৌর শহরের বাদে আঠারবাড়ি এলাকায় মা হাওয়া (আ.) কওমী মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনার পর পর  কেন্দুয়া থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগের কথা জানিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তার মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী ওই মাদ্রাসার মোহতামিম (পরিচালক) এবং সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের সোণাকানী গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। 

শনিবার সিলেটের বালুরচর কওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস এই  মাওলানা আবুল খায়ের বেলালীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার ওই মাদ্রাসার দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় এক ছাত্রীর বাবা ও এক ছাত্রীর চাচা পৃথক দুইটি ধর্ষণের মামলা করেন বলে জানান ওসি মো. রাশেদুজ্জামান।         

ওসি জানান, মেডিকেল পরীক্ষার জন্যে দুই ছাত্রীকে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্যে দুইজন ছাত্রীকে হাকিমের কাছে  নেয়া হবে।    

নেত্রকোণা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাহজাহান মিয়া জানান, প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে উঠে। পরে আমরা ওই ছাত্রীটির সাথে নিবিরভাবে কথা বলে জানতে পারি ধর্ষণের কথা। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য দিয়েছেন আবুল খায়ের।

 তিনি জানান, গত এক বছর ধরে এই মাদ্রাসায় আছেন আবুল খায়ের। মাদ্রাসাটিতে প্রায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক ৩৫ জন ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন ছাত্রী মাদ্রাসার আবাসিকে থেকে লেখাপড়া করে। শিক্ষক বেলালীও থাকেন মাদ্রাসার আবাসিকে।এই এক বছরে তিনি মাদ্রাসার  ৮ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।

মাওলানা বেলালীর যৌন নির্যাতনের বিবরণ দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সময় সুযোগ বুঝে  নিজের কক্ষে কলিংবেল চেপে পছন্দমত একেকজন কোমলমতি ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরে তার হাত-পা টিপে  দিতে বলেন। এরই এক পর্যায়ে শিশুদের উপর ঝাপিয়ে পড়েন। শেষে তিনি কোরআন শরীফে হাত দিয়ে কাউকে কিছু না বলতে বলতে শপথ করান। এ সময় তিনি ভয় দেখিয়ে বলেন,এই কথা বললে আল্লাহ তোমাকে দোযখের আগুনে পোড়াবেন।

  মো: শাহজাহান মিয়া আরো জানান, বয়ানে সুবক্তা এই মাওলানা বেলালীর শিকার হওয়া শিশুদের সবার বয়স ৮ থেকে ১১ বছরের মধ্যে।

 

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ধর্ষণের শিকার  আট বছর বয়সী মেয়েটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার মা চট্রগ্রামে গৃহকর্মীর কাজ করেন।মাদ্রাসাটির ছাত্রী নিবাসে থেকে লেখাপড়া করে সে। সকালে খায়ের মেয়েটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে।

“এ সময় মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে আটক করে পিটুনি দেয়।পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে খায়েরকে গ্রেপ্তার করে।”

বাংলানিউজ লাইন.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: